Site Logo

ঘুষ দিয়ে টিকিট! পুরুলিয়ার সভা থেকে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিষেক

EBBS Desk·
ঘুষ দিয়ে টিকিট! পুরুলিয়ার সভা থেকে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিষেক

পুরুলিয়ার বলরামপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী জলধর মাহাতো তাদেরই দলের সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতোকে ঘুষ দিয়ে টিকিট পেয়েছেন।

Sponsored

Sranchi In Article

সোমবার তৃণমূল প্রার্থী শান্তিরাম মাহাতোর সমর্থনে বলরামপুর বিধানসভার বলরামপুর কলেজ ময়দানে সোমবার দিনের প্রথম জনসভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই জনসভা থেকে একযোগে পুরুলিয়াযর সাংসদ ও বলরামপুরের বিজেপি প্রার্থী জলধর মাহাতোকে আক্রমণ করেন। এদিনের সভা থেকে অভিষেক কড়া সুরে বলেন, আমি শুনেছি এখানকার যে সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতোর আপ্তসহায়ক এই বিজেপি প্রার্থী। আমি ঠিক-ভুল জানি না, সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতোকে নতুন গাড়ি গিফট করে বিজেপির প্রার্থিপদ ঘুষ দিয়ে নিয়েছেন। বিজেপি প্রার্থী জলধর মাহাতো, এখানে যিনি দাঁড়িয়েছেন তিনি জ্যোতির্ময় মাহাতোর আপ্তসহায়ক ছিলেন। তাঁর অধীনে বলরামপুরবাসীকে থাকতে হবে।  আপনারা কি মেনে নেবেন এই অপমান। দিল্লির ক্রীতদাসের আপ্তসহায়ককে আপনাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এ দিনের সভা থেকে বিজেপিকে মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, এখানকার ত্রিলোচন মাহাতো ও দুলাল কুমারের মৃত্যুর পর তৎকালীন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ এসে বলেছিলেন তাঁদের পরিবারের কোনও এক সদস্যকে কেন্দ্রীয় সরকার কোনও একটি দফতরে সরকারি চাকরি করে দেওয়া হবে। আজ আট বছর হয়ে গেছে তারপর তাদের পরিবারের কোনও সদস্য চাকরি পাইনি। বিজেপির কোনও কর্মীকে ফোন করে অথবা বিবেক মাহাতো, জ্যোতির্ময় মাহাতোকে ফোন করলে ফোনটাও তোলে না। এই হচ্ছে বিজেপির আসল চেহারা।

তৃণমূলের সাথে বিজেপির পার্থক্য নিয়ে তোপ দেগে অভিষেক বলেন, মোদির গ্যারান্টি মানে জিরো ওয়ারেন্টি। আর তৃণমূলের গ্যারান্টি মানে লাইফ টাইম ওয়ারেন্টি। কথা দিয়ে কথা রাখার নাম তৃণমূল কংগ্রেস। পুরুলিয়ার ডবল ইঞ্জিন সরকারের স্বাদ ২০১৯ সাল থেকে পেয়েছে। সাংসদ বিজেপির, বিধায়ক বিজেপির। কী পেয়েছেন বলরামপুরবাসী? পেয়েছেন কিছু? মানুষের অধিকার রক্ষায় তৃণমূল কংগ্রেসের লড়াই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনার অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। যাকে এখানে জিতিয়েছিলেন ৫ বছর অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে খুঁজে পাননি। এসআইআরের সময় ফর্ম ফিলাপ করবেন, হিয়ারিং সেন্টারে যাবেন, বিজেপি-র কেউ পাশে এসে দাঁড়ায়নি। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা দাঁড়িয়েছে।

পুরুলিয়ায় কেন্দ্রের রেলও সময়ে চলে না। এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি পুরুলিয়ায় জানুয়ারি মাসে এসছিলাম। সেখানে আমি একাধিকবার আপনাদের বলেছি পুরুলিয়ায় যে সমস্ত ট্রেন চলে বিশেষ করে এখন বলরামপুর হয়ে অযোধ্যা যায়, এবং যত ট্রেন আছে কোনও ট্রেন সময়ে ঢোকে না। সে আপনার হাওড়া-চক্রধরপুর এক্সপ্রেস হোক বা ওদিকে পুরুলিয়া এক্সপ্রেস  বা রূপসী বাংলা হোক, কোনও ট্রেন টাইমে ঢোকে না। আমি একটা উদাহরণ খালি আপনাদের দিচ্ছি। হাওড়া-চক্রধরপুর এক্সপ্রেস, ভোর সাড়ে ছটায় পুরুলিয়ায় ঢোকার কথা। গত আঠেরো তারিখ, অর্থাৎ পরশুদিন, পুরুলিয়ায় ঢুকেছে সাড়ে ছটার জায়গায় ১১.৪৩-এ। তার মানে পাঁচ ঘণ্টার বেশি লেট। আমি আজকে বলে যাচ্ছি এবার আগামী দুদিন তিনদিন দেখবেন টাইমে ঢুকবে। এরপর আসি পুরুলিয়া এক্সপ্রেস। হাওড়া থেকে বিকেলে ছাড়ে আর রাত্রির ১০.২০-তে পুরুলিয়ায় ঢোকার কথা, পুরুলিয়া এক্সপ্রেস। গত আঠেরো তারিখ ঢুকেছে ১২.৩৪। অর্থাৎ ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট লেট। আর গতকাল রাত্রে ঢুকেছে রাত ১.৪৩। অর্থাৎ ৩ ঘণ্টার বেশি লেট। এখানকার সাংসদ সুনিশ্চিত করতে পারে না যে নিয়মে ট্রেন পৌঁছায়, মানুষের যাতে অসুবিধা না হয়, সে উন্নয়ন দেবে আপনাদের কোত্থেকে?

বলরামপুরে জয়ের ব্যাপারে প্রত্যয়ী সেকেন্ড ইন কমান্ড। তিনি বলেন, আজকের সভা বলে দিচ্ছে এই বলরামপুর থেকে তৃণমূলের জয় সময়ের অপেক্ষা, আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটা খালি ৪ তারিখ হবে। তিনি আরও বলেন, সারা জীবন রাজনীতি করতে গিয়ে পরিবার-পরিজনের সাথে সময় কাটাতে পারেনি। ৫ মাস আগে নিজের অর্ধাঙ্গিনীকে হারিয়েছে। তাও আপনাদের পাশ থেকে সরেনি। এই হচ্ছে শান্তিরাম মাহাতো। সেই শান্তিরাম মাহাতোকে আমরা প্রার্থিপদ দিয়েছি। এখানে বাণেশ্বর মাহাতো ভোটে হারত। আর যাকে দাঁড় করিয়েছে তাকে দাঁড় করানোর ফলে আমি বিশ্বাস করি পাঁচ হাজার ভোট হলেও তৃণমূলের বাড়বে, কমবে না। জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা।

আরও পড়ুন - বেলেঘাটায় কুণালের লড়াই আর সাংবাদিকতা: প্রচারে গান্ধীজিকে মনে করালেন মমতা

_

 

_

 

_

 

_

Sponsored

Merlin In Article

Sponsored

Shyam Sundar In Article

Sponsored

Camelia In Article

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from রাজ্য

View All →
‘ঘুষখোর’ পুলিশদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ! খোলা হচ্ছে কন্ট্রোলরুম: ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, ২০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা

‘ঘুষখোর’ পুলিশদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ! খোলা হচ্ছে কন্ট্রোলরুম: ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, ২০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা

18h ago