প্রতিবাদের নামে ডিম ছুড়ে হিংসা ছড়ানোর প্রবণতা নিয়ে গত মঙ্গলবারই কড়া অবস্থান নিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যের কাছে এই বিষয়ে হলফনামা তলব করেছিল আদালত। কিন্তু সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই ফের ডিম ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল নদিয়ার কালীগঞ্জ। পুলিশের সামনেই তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে বিজেপির দুষ্কৃতীরা ডিম ছোড়ে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় এবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করার পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন।
বুধবার কালীগঞ্জের একটি দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কর্মসূচি চলাকালীন হঠাৎই দলীয় কার্যালয়ের বাইরে একদল মহিলা ও পুরুষ জড়ো হয়ে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা সকলেই বিজেপির সমর্থক ছিলেন এবং তাঁদের হাতে ডিম ছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মহুয়া মৈত্র নিজের ফোনেই গোটা ঘটনার ভিডিয়ো রেকর্ডিং শুরু করেন। সেখানে স্পষ্ট দেখা যায়, দলীয় কার্যালয় লক্ষ্য করে অনবরত ডিম ছোড়া হচ্ছে। বুধবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও নিজের অবস্থানে অনড় থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন তৃণমূল সাংসদ।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এদিন সমাজমাধ্যমে মুখ খোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, মহুয়া মৈত্রর উপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। এর পরেই প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, আদালত যেখানে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে উপযুক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিল, সেখানে পুলিশের এই নীরবতা উদ্বেগজনক। এটাই কি তবে পরিবর্তন? কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যদি মাথা নত না করেন, তাহলে তাঁকে হেনস্থা করা কাপুরুষতার পরিচয়।
শাসকদলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক আরও মনে করিয়ে দেন যে, রাজনৈতিক ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। যাঁরা আজ ক্ষমতার জোরে বিরোধীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের মনে রাখা উচিত ক্ষমতার পালাবদল খুব দ্রুত ঘটে যায়। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভয় দেখানোর প্রতিটি ঘটনা মানুষ মনে রাখে। তাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পথে না গিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার দিকে নজর দেওয়া দরকার। হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও খোদ নারী সাংসদের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের এই ভূমিকা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।
















