তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মঞ্চ থেকে শাসকদল বিজেপির পাশাপাশি গোদি মিডিয়াকেও চরম কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর কথায়, অভিষেক ২৫টা ব্যাগ নিয়ে আমেরিকা পালিয়ে গিয়েছেন বলে দেখিয়েছে যে সংবাদ মাধ্যম তাদের কর্ণধারের তার ২২ হাজার সাড়ে ৬ কোটি টাকার ঋণ। এনসিএলটি বিজেপি সরকার মাফ করে দিয়েছে। 
চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) তাঁকে অনুমতি দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ একশ্রেণির সংবাদ মাধ্যম বিজেপির এক মন্ত্রীর কথার রেশে ধরে দেখিয়ে দেয়, অভিষেক ২৫টি ব্যাগ নিয়ে আমেরিকা (America) পালিয়ে গিয়েছে। এদিন মঞ্চ থেকে গদি মিডিয়াকে নিশানা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বলেন, ”এখানে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা আছে, সংবাদমাধ্যম কী খবর পরিবেশন করছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ২৫টা ব্যাগ নিয়ে আমেরিকা পালিয়ে গেছে। গতকাল দেখছি, যে সংবাদমাধ্যম এই খবরটা পরিবেশন করেছে তার যিনি কর্ণধার তার ২২ হাজার কোটি টাকার ঋণ। এনসিএলটি (NCLT) বিজেপি সরকার মাফ করে দিয়েছে। ভাই আমার এতো দাম আমি তো জানতামই না! আমাকে গালাগালি করার জন্য ২২ হাজার কোটি টাকা মাফ?”

রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে অভিষেক বলেন, ”যারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে চুরি করে ভোটে জিতেছে, এই লড়াই বাংলার প্রত্যেক বুথ থেকে গণতান্ত্রিকভাবে উৎখাত করার লড়াই। আমি বিজেপিকে বলব- তৃণমূল কংগ্রেস, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্পর্শ করা দূরের কথা, বুকের পাটা থাকলে ছাত্র যুবদের সঙ্গে আগে লড়ে দেখাও।”
এর পরে দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, ”আপনাদের সংবাদমাধ্যম অনেক কিছু দেখাবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পালিয়ে গেছে। যতদিন না আমার মৃতদেহ দেখবেন, আর মৃতদেহের উপর জোড়াফুলের পতাকা দেখবেন, কারুর কথা বিশ্বাস করবেন না। এদের যা জেদ, তার দশ গুণ জেদ আমার। "যাব তক মে মারা নেহি, তাব তাক মে হারা নেহি। লড়াই তো হবে। কত ধানে কত চাল বোঝাবো। তোমার ইডি, সিবিআই, কলকাতা পুলিশ, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, এসটিএফ, সিআইডি সবাইকে লাগাও। যত ক্ষমতা আছে প্রয়োগ করো, তাও জয় বাংলা, জয় হিন্দ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ বেরবে। মাথা নত হবে না।" 
বিজেপিকে (BJP) নিশানা করে অভিষেক বলেন, "যারা মানুষের জন্য কাজ করবে বলে এসেছিল। এই অগাস্ট মাসের এক তারিখে চিনির দাম ছিল ৪০ টাকা, আজকে চিনির দাম ৭০ টাকা। পেঁয়াজ ছিল ২০ টাকা কেজি, আজকে এক কেজি পেঁয়াজ ৭০ টাকা, ৮০ টাকা। একটা পাতি লেবু বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৯ টাকায়। সর্ষের তেল ২০০ টাকা পার করে গিয়েছে। পেট্রোল ১১৫ টাকা। ডিজেল ১০০ পার করে গেছে। বলেছিল মহিলাদের ৩০০০ টাকা করে অন্নপূর্ণা ভান্ডার দেবো। এই যে নেত্রী বসে আছে, সিঙ্গল ইঞ্জিন চালিয়েছে। সিঙ্গল ইঞ্জিন চালিয়ে আড়াই কোটি মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েছেন। আর মোদিবাবু, শুভেন্দু অধিকারী, এক দিকে কেন্দ্র, একদিকে রাজ্য ডবল ইঞ্জিনের সরকার। মোদিবাবুর সাহায্য নিয়েও দেড় কোটি মহিলাকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দিতে পারছে না, এটাই পার্থক্য। আমাদের সরকার ২০২৬ সালে বাজেট পরিবেশন করার এক মাসের মধ্যে ৮০ লক্ষ যুবক-যুবতীকে যুবসাথি ভাতা দিয়েছিল ১৫০০ টাকা করে। আজ প্রায় ৭৫ লক্ষ যুবককে বাদ দিয়ে দিয়েছে, এক কোটি মহিলাকে বাদ দিয়ে দিয়েছে। আমরা বাংলার মানুষকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কী চাই, ডবল ইঞ্জিন না সিঙ্গেল ইঞ্জিন? মোদিজির গ্যারেন্টি নাকি দিদির ওয়ারেন্টি? বাংলার মানুষ বলেছিল দিদির ওয়ারেন্টি। যারা লোভে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন ক্ষমতায় এলে ৩০০০ পাব, আজকে দেখছেন তো সমাজমাধ্যমের ভিডিওগুলি?"
















