তৃণমূল সভাপতির উপর নৃশংস হামলা। কাঠগড়ায় বিজেপি (BJP)। মঙ্গলবার রাতে সাতগাছিয়া বিধানসভার বিষ্ণুপুর-২ ব্লকের তৃণমূল (TMC) সভাপতি জ্ঞানানন্দ সামন্তকে নির্যাতনের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে। অপরাধীরা প্রকাশ্যেই হিংসা ও তাণ্ডব চালাচ্ছে, অথচ প্রশাসনের একাংশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। পুলিশ যদি জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা কোথায়? এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে তৃণমূলের সরবভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) অভিষেক লিখেছেন, "গতকাল গভীর রাতের নৃশংস ও কাপুরুষোচিত এই ঘটনাটি সমগ্র বঙ্গবাসীর মনে গভীর ভয়ের ও আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। সাতগাছিয়া বিধানসভার অন্তর্গত বিষ্ণুপুর-২ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি জ্ঞানানন্দ সামন্ত মহাশয়ের ওপর যেভাবে বিজেপির গুন্ডাবাহিনী হামলা চালিয়েছে এবং অমানবিক নির্যাতন ও অত্যাচার করেছে, তা কোনোভাবেই সভ্য সমাজের অঙ্গ হতে পারে না। এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা আমাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উপর কলঙ্কের দাগ ফেলে দিয়েছে।"
ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের মতে,, "রাজনীতিতে মতাদর্শগত পার্থক্য থাকতে পারে, বিরোধিতাও থাকতে পারে; কিন্তু পৈশাচিক কায়দায় শারীরিক আক্রমণ চালিয়ে প্রতিপক্ষকে দমন করার এই অপসংস্কৃতি বাংলার মাটি সহ্য করবে না। শাসক দলের ছত্রছায়ায় থাকা এই সমস্ত গুন্ডাবাহিনী রাজ্যে যেভাবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চাইছে, তা সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো- এই ধরনের নৃশংস ঘটনার পরও রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা! আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, সেই পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা আজ প্রশ্নের মুখে। অপরাধীরা প্রকাশ্যেই হিংসা ও তাণ্ডব চালাচ্ছে, অথচ প্রশাসনের একাংশের নিষ্ক্রিয়তা বা নীরব দর্শকের ভূমিকা জনমনে মারাত্মক সংশয় তৈরি করছে। পুলিশ যদি জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা কোথায়? এই ধরনের জঘন্য সন্ত্রাস চলতে দিলে তা গণতন্ত্রের ভিতকে সম্পূর্ণভাবে নস্যাৎ করে দেবে।"
দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি করে অভিষেক লেখেন, "বাংলা বরাবরই শান্তি, সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত। এখানে সহিংসতার কোনো জায়গা থাকতে পারে না। অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত অপরাধীকে চিহ্নিত করে কঠোরতম আইনি শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পুলিশ প্রশাসনকে মেরুদণ্ড সোজা করে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে এবং রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে আইনের শাসন সুনিশ্চিত করতে হবে। এই জনবিরোধী বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে। হত্যা, ভয় দেখিয়ে আমাদের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না।"
















