মিলন মেলার মঞ্চ থেকে আরও একবার সিএএ এবং অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে অত্যন্ত চড়া সুরে হুঙ্কার ছাড়লেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন মিলন মেলার মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শের সরকার আজ রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত। ফলে তাঁর স্বপ্নপূরণে কোনও খামতি রাখা হবে না। কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ এবং সিএএ-র মাধ্যমে শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে তীব্র আক্রমণ করেন অমিত শাহ।
নেহরু-লিয়াকত চুক্তির বিরোধিতা করেই যে শ্যামাপ্রসাদ প্রথম মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে শাহ বলেন, আজ তাঁরই পার্টির সরকার সিএএ এনে সমস্ত হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ করেছে। শুভেন্দু অধিকারী প্রতিদিন তাঁর কাছে এই দাবি করছেন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেন, নাগরিকত্ব দেওয়ার যেটুকু বাকি অংশ রয়ে গেছে, তাও দ্রুত শেষ করা হবে। কারণ এখানে এখন বিজেপির সরকার আছে। এর পরেই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সুর চড়িয়ে তিনি জানান, ভারতের ভূমি থেকে প্রত্যেকটি অনুপ্রবেশকারীকে বেছে বেছে বের করে দেশকে পূর্ণ সুরক্ষিত করা হবে।
রাজ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে সরকারি ছুটি ঘোষণা করায় শুভেন্দুকে অভিনন্দন জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এত বছর পর বাংলায় ভারত কেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তীকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করে তাঁকে সম্মান জানানোর কাজ করেছেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে তিনি জানান, কলকাতার এক মনোরম হ্রদের তীরে এই ১২৫ ফুটের মূর্তি গড়ে ওঠার পাশাপাশি সেখানে ভারতের সুরক্ষার জন্য গবেষণা করতে ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ইনস্টিটিউশন’ও স্থাপিত হবে। ইকো পার্কের ঝিলের পাড়ে এই বিশাল মূর্তির পাশাপাশি একটি পৃথক রিসার্চ সেন্টার গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি। ঘটনাচক্রে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী এবং ‘বন্দে মাতরম’ রচনার ১৫০ বছর একই বছরে আসাকে বিধির লিখন বলে উল্লেখ করেন শাহ।
শুভেন্দু সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে অমিত শাহ দাবি করেন, এত কম সময়ে আর কোনও রাজ্য সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহার এভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি। অন্নপূর্ণা যোজনা, উজ্জ্বলা ৩.০, মহিলাদের জন্য বাসে বিনামূল্যে যাত্রা, আয়ুষ্মান ভারতের মতো প্রকল্প রাজ্যে কার্যকর হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আবেগপ্রবণ কণ্ঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজ তাঁর মতো অনেকের আবেগপ্রবণ হওয়ার দিন। দেশের প্রথম মন্ত্রিসভা থেকে শ্যামাপ্রসাদ পদত্যাগ করেছিলেন। ওঁর মৃত্যুর এত বছর পর আজ বাংলায় ওঁর মূর্তির শিলান্যাস হলো এবং বাংলায় আজ শ্যামাপ্রসাদের পার্টির সরকার এসেছে। কাশ্মীর প্রসঙ্গে কংগ্রেসকে তীব্র নিশানা করে শাহ যোগ করেন, শ্যামাপ্রসাদের সন্দেহজনক মৃত্যুর কোনো তদন্ত করেনি কংগ্রেস। আজ মোদিজি ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত করে তাঁর স্বপ্ন সফল করেছেন। জনসংঘের বীজ আজ বটবৃক্ষ হয়ে ভারতকে ফল দিচ্ছে।
















