রেজিনগর (Rejinagar) বিধানসভা উপনির্বাচনের (By-Poll) আগে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-কে ঘিরে ফের উত্তেজনা। দলের আরও এক কর্মীকে গ্রেফতার (Arrest) করল পুলিশ। ধৃতের নাম হায়দার শেখ। শক্তিপুর থানায় হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) ধর্না চলাকালীন থানার সামনে অভব্য আচরণের অভিযোগেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

আরও পড়ুন: হাইকোর্টের দ্বারস্থ নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী, স্বামীর জন্য ভোট প্রার্থনা মিলনের স্ত্রী-র


অন্যদিকে দলের নেতা-কর্মীদের ‘বেআইনি ভাবে’ গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) দ্বারস্থ হয়েছেন AJUP প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। রবিবার রাতে ইমেলের মাধ্যমে কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। এর আগে শনিবার AJUP-র রাজ্য সম্পাদক আশিক ইকবাল-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি অস্ত্র ও জাল নোট সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এছাড়াও রেজিনগর উপনির্বাচনের নির্দল প্রার্থী তথা AJUP-এর সঙ্গে যুক্ত সাইফুল ইসলাম মণ্ডল ওরফে মদনকে একটি পুরনো মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিয়েই সরব হুমায়ুন।

রবিবার রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন AJUP প্রধান। তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ এই আসনে দলের প্রার্থী। হুমায়ুনের অভিযোগ, দলের কর্মীরা প্রচারে বেরোলেই পরের দিন তাঁদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। সেই কারণেই মাঠে নেমে প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ রবিনকেও সরাসরি প্রচারে না নামার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান হুমায়ুন। তবে সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে দলের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন নওদার বিধায়ক। তাঁর দাবি, ৬ অক্টোবর রেজিনগরে ভোটের দিন ভোট লুঠ হতে পারে। ভোটের দিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করার কথাও বলেছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। এর আগে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন হুমায়ুন। উপনির্বাচনের দিন তাঁর প্রাণহানি পর্যন্ত হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভোট লুঠের আশঙ্কা থেকেই তাঁর উপর হামলা হতে পারে। যদিও এই আশঙ্কার পক্ষে কোনও স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগরের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন তিনি। সেই কারণেই রেজিনগরে উপনির্বাচন হচ্ছে। এবার ওই আসনে তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদকে প্রার্থী করেছে AJUP। আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগরে ভোটগ্রহণ। ফলে ভোটের আগে একদিকে দলের একের পর এক কর্মীর গ্রেফতারি, অন্য দিকে পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ সব মিলিয়ে রেজিনগরের উপনির্বাচনের আবহ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।