বিপাকে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। একুশের ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করলো সিউড়ি জেলা জজ আদালত। এই ঘটনায় বীরভূমের প্রাক্তন জেলা তৃণমূল সভাপতির উপর আইনি চাপ যে বহুগুণ বাড়ল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আদালতে রক্ষাকবচ নেই, তাহলে কি যে কোনও মুহূর্তে গ্রেফতার হতে পারেন অনুব্রত? সেই আশঙ্কাই কেষ্ট ঘনিষ্ঠদের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। 

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ইটভাটা ভাঙচুর ও প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ইট লুটের মামলায় ক্রমশ চাপ বাড়ছে অনুব্রতর। কঙ্কালীতলা অঞ্চলের পাথরঘাটার ইট ব্যবসায়ী তথা বোলপুরের ত্রিসুলাপট্টির বাসিন্দা শুভেন্দু মণ্ডলের (Shubhendu Mondal) দায়ের করা অভিযোগ জুন মাসের গোড়ার দিকে সামনে আসে। ব্যবসায়ী জানিয়েছিলেন, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূল সরকার গঠিত হওয়ার পরেই অনুব্রত মণ্ডলের নির্দেশে এবং কঙ্কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মামন শেখের নেতৃত্বে প্রায় ২০০ জন দুষ্কৃতী শুভেন্দুর ইটভাটায় চড়াও হয়ে তাণ্ডব চালায়। কর্মচারীদের মারধর করে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ইট লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।তৃণমূল আমলে পুলিশকে বারবার বলেও কোনও লাভ হয়নি। তিনি বলেন, তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও নাকি দিয়েছিলেন অনুব্রতর লোকেরা! রাজ্যে বিজেপি সরকার (BJP Government) আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিলে, ওই ব্যবসায়ী শান্তিনিকেতন থানায় (Shantiniketan Police Station) নতুন করে অনুব্রত মণ্ডল সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মামলার এক নম্বর অভিযুক্ত অনুব্রত। গ্রেফতারির আশঙ্কায় অগ্রিম জামিনের আবেদন করেন কেষ্ট। কিন্তু মঙ্গলবার আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে। বীরভূমের দাপুটে নেতার তরফ থেকে এই নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।