রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত যোজনা কার্যকর করা নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ১৫ই জুলাই থেকেই রাজ্যে এই স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বর্তমানে যাঁরা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন, আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁদের প্রত্যেককে আয়ুষ্মান ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই প্রক্রিয়াতে আর কোনও রকম বিলম্ব সহ্য করা হবে না বলেও প্রশাসনিক মহলে বার্তা দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা একটি ম্যারাথন প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এই কড়া নির্দেশ দেন। 

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই প্রকল্পের সুবিধা যাতে যোগ্য পরিবারের প্রতিটি সদস্য পান, তার জন্য বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবারে নতুন যুক্ত হওয়া সদস্যদের নাম তোলার ক্ষেত্রে আয়ুষ্মান কার্ডের ব্যবহার করা যাবে। বিবাহের পর পরিবারে আসা নতুন পুত্রবধূ, নবজাতক শিশু কিংবা পূর্বে কোনও কারণে বাদ পড়ে যাওয়া যোগ্য সদস্যদের নাম এই তালিকায় যুক্ত করা যাবে। এই নাম নথিভুক্তকরণের কাজটি সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই নিজে করতে পারবেন। অথবা তাঁদের সুবিধার্থে নিকটবর্তী কমন সার্ভিস সেন্টার (সিএসসি) কিংবা তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের আয়ুষ্মান মিত্রদের সাহায্য নেওয়া যাবে। 

প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিবারে নতুন সদস্য যুক্ত করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে। নতুন বিবাহিতা পুত্রবধূর নাম তোলার জন্য ম্যারেজ সার্টিফিকেট বা বিবাহের শংসাপত্র, স্বামীর মূল আয়ুষ্মান কার্ড এবং পুত্রবধূর নিজস্ব পরিচয়পত্র বা আধার কার্ড জমা দিতে হবে। অন্যদিকে, নবজাতক শিশুর ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে শিশুর জন্ম শংসাপত্র এবং বাবা অথবা মায়ের আয়ুষ্মান কার্ড। 

এই পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব। এর জন্য আয়ুষ্মান যোজনার অফিশিয়াল পোর্টালে গিয়ে নিজস্ব মোবাইল নম্বর এবং ওটিপি (OTP) ব্যবহার করে লগইন করতে হবে। এরপর কার্ডের বিবরণী খুলে ‘সদস্য যোগ করুন’ বা ‘অ্যাড মেম্বার’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। সেখানে নতুন সদস্যের সমস্ত তথ্য পূরণ করার পর আধার যাচাইকরণ এবং প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করলেই কাজ সম্পন্ন হবে। উপযুক্ত পরীক্ষা ও যাচাইয়ের পর ওই সদস্যের জন্য একটি নতুন আয়ুষ্মান কার্ড তৈরি হয়ে যাবে। 

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, অসুস্থতা কখনও আগাম সংকেত দিয়ে আসে না। বিশেষ করে নবজাতক এবং প্রসব-পরবর্তী সময়ে মায়েদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এই ধরনের চিকিৎসার সুযোগ অত্যন্ত জরুরি। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষ কোনও আর্থিক বা মানসিক চাপ ছাড়াই দেশের সেরা হাসপাতালগুলিতে ক্যাশলেস অর্থাৎ নিখরচায় চিকিৎসার সুবিধা পাবেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।