কাঁচামালের আকাশছোঁয়া দাম, করের বোঝা এবং প্রশাসনিক উদাসীনতায় তীব্র সঙ্কটে রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি বেকারি শিল্প। সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের নিত্যদিনের সস্তা খাবার পাউরুটির জোগান বজায় রাখতে গিয়ে কার্যত মৃত্যুর প্রহর গুনছে ঐতিহ্যবাহী এই ক্ষেত্র। অবিলম্বে সরকারের তরফে সদর্থক হস্তক্ষেপ না মিললে রাজ্যের প্রায় তিন হাজার বেকারি কারখানা স্থায়ী ভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট মহল। আর তেমনটা ঘটলে জীবিকা হারিয়ে পথে বসবেন এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কয়েক লক্ষ শ্রমিক ও কর্মচারী।
রবিবার কলকাতায় আয়োজিত ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল বেকার্স কো-অর্ডিনেশন কমিটি’-র বার্ষিক সম্মেলনে এই সঙ্কটের ভয়াবহ ছবি তুলে ধরা হয়। পশ্চিমবঙ্গ বেকারস অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে, ময়দা, চিনি, ভোজ্য তেলের মতো অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামাল এবং প্যাকেজিং সামগ্রীর দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি পাউরুটির দাম সামান্য বাড়ানো হলেও উৎপাদন খরচের সঙ্গে তা কোনও ভাবেই এঁটে উঠতে পারছে না। এর উপর বেকারি কনফেকশনারি সামগ্রীর উপর আরোপিত ৫ শতাংশ জিএসটি এবং প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সহায়তার অভাব ছোট কারখানাগুলিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সংগঠনের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক আরিফুল ইসলাম ও সম্পাদক শেখ ইসমাইল হোসেন শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় সরকারের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন।
শিল্প বাঁচাতে সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে একগুচ্ছ দাবি পেশ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে কাঁচামালের দাম নিয়ন্ত্রণ, বেকারি পণ্যের উপর থেকে ৫ শতাংশ জিএসটি অবিলম্বে প্রত্যাহার, পরিবেশবান্ধব আধুনিক যন্ত্রপাতি বসাতে সহজ শর্তে কম সুদে ঋণ প্রদান এবং পৃথক ‘বেকারি ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন’ গঠন। পাশাপাশি সরকারি স্ট্যান্ডার্ড টেস্টিং ল্যাবরেটরি তৈরি, শ্রমিকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে স্থানীয় বেকারিতে তৈরি পুষ্টিকর খাদ্য অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, খাদ্য নিরাপত্তা ও লক্ষ লক্ষ মানুষের রুটি-রুজির স্বার্থে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না করলে এই ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদ্র শিল্পটিকে বাঁচানো কঠিন হবে।
















