প্রশ্ন হল, মানুষ মুখোশটা দেখছে। আসল মুখখানা কেন দেখাচ্ছে না বিজেপি?
বিজেপি কত ভাল রাজনৈতিক দল, তা প্রমাণ করতে মরিয়া রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। নিয়ম করে অন্তত সপ্তাহে একবার করে রাজ্যসভার সাংসদ ও রাজ্য বিজেপির কাণ্ডারী বলেন, তোলাবাজি, মারধর, ডিম ছোঁড়া, হুমকি আরও অনেক কিছু মোটেই বিজেপি প্রমোট করে না। রাজ্য বিজেপির নাকি এসব সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে না। কিন্তু কে কার কথা শোনে! মিডিয়াকে দেখাতে হচ্ছে না। এলাকায় এলাকায় মানুষ ভিডিও করে বাজারে বিজেপি নেতা-কর্মীদের যেসব মণিমুক্তো ছাড়ছে, তাতে বিজেপি নেতাদের লেজে আগুন দেওয়ার মতো অবস্থা। আজ এখানে তো কাল ওখানে। পরশু বাড়ি করার জন্য তোলার টাকা তো পরের দিন তৃণমূলের বাড়ি এমনকি থানায় ঢুকে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে।
সব কিছু ছাড়িয়ে গিয়েছে এন্টালি থানার ঘটনা। বিজেপি ভার্সেস বিজেপি লড়াই। থানায় ঢুকে হুজ্জতি। এখানেই শেষ নয়। বিজেপি নেতা সুদীপ রাম থানায় তালা লাগিয়ে দিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশকে বিজেপি নেতারা এক সময় দলদাস বলত। এখনকার পুলিশকে কেউ যদি বলে চুরি পরে বসে রয়েছে, সেটা কি অন্যায় হবে। সুদীপের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি পুলিশ। ভাবুন। তৃণমূলের অফিসের বিল বোর্ড ভাঙার জন্য প্রায় সেনাবাহিনী নামিয়ে দেওয়া হল। ১৩ জন গ্রেফতার হল। আর পুলিশের থানায় তালা মারার পরেও প্রশাসন নির্বিকল্প সমাধিতে রয়েছে। চক্ষু লজ্জায় দল সুদীপ রামকে সাসপেন্ড করার পরেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি। রাজনীতির রঙ দেখে চলে না পুলিশ, মুখ্যমন্ত্রী এ কথা বলছেন। কিন্তু বাস্তবে ঠিক উল্টোটাই হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী শনিবার গিয়েছিলেন প্রয়াত প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। পাশে থাকার অঙ্গীকার। কিছু ছবি ও নানা কথা। সবটা দেখতে ও শুনতে নিশ্চিতভাবে ভাল লাগে। যখন বলেন, ওনার মৃত্যু দুর্ভাগ্যজনক তখন একটা প্রশ্ন তো উঠবেই। আশিসবাবুর স্ত্রী মৃত্যুর দিন একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছিলেন, ওনাকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতা অপমান করেছিল। তারপর থেকেই মনমরা। তার সঙ্গে প্রতিদিন কিছু না কিছু অপমানের ঘটনা ঘটেছে। একজন প্রাক্তন অধ্যাপক মানুষ এই অপমানটা নিতে পারেননি। তাই জীবন শেষ করে দিলেন। প্রশ্ন, ওই অপমান করা লোকটির কথা একবারের জন্যও কেন বলছে না বিজেপি? সৌমিত্র ঘোষ নামে ওই বিজেপি নেতা বর্ধমান উত্তর বিধানসভার ৬ নম্বরের মণ্ডল সভাপতি। তার ওই হুমকির কথা নিশ্চয়ই মনে আছে। যদি মনে না থাকে, তাহলে আর একবার মনে করিয়ে দিচ্ছি।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় সেদিন সকালে রামপুরহাট থেকে কলকাতা আসছিলেন একুশের সভার জন্য। শক্তিগড়ে চা-পানের জন্য নামেন। গাড়িতে উঠতেই বিজেপির মণ্ডল সভাপতি সৌমিত্র ঘোষ গাড়ির কাছে এগিয়ে আসেন। এসে বলেন, অনেক তো চুরি-চামারি করেছেন। সেসবের হিসেব কে দেবে? বয়স কম হলে চাবকে ছাল তুলে দিতাম। এই কথাটাই তাঁর মনের মধ্যে মৃত্যু পর্যন্ত ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তা তো তাঁর স্ত্রী বলে দিয়েছিলেন। তারপরেও ওই নেতাটিকে শোকজ, সাসপেন্ড, বহিষ্কার কিচ্ছুটি করা হয়নি। বহাল তবিয়তে ঘুরছে। আর তার পাপের ফল নিয়ে একটি পরিবার পারলৌকিক ক্রিয়া কাজ করছে।
মাননীয় শমীকবাবু ও শুভেন্দুবাবু, একবার ওই সৌমিত্রর কথাও বলুন! আপনার নেতা যে অন্যায় করেছিল, সেটা বলুন। যদি অন্যায় না করে থাকে, তাহলে সেটাও প্রকশ্যে বলুন। একটা মানুষের মৃত্যুর অন্যতম কারণ আপনার দলের একজন নেতা। অন্তত আশিসবাবুর স্ত্রীর কথায় সেটাই স্পষ্ট। অথচ তার বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর হয় না, তদন্ত হয় না, পুলিশ গ্রেফতার করে না, দল তাকে সাসপেন্ড করার ক্ষমতা পর্যন্ত দেখাতে পারে না।
এরপরেও বলবেন, পুলিশ রঙ দেখে কাজ করে না? এরপরেও আপনারা আশিসবাবুর বাড়ি যাবেন, অথচ আশিসবাবুর পরিণতির অন্যতম কারণ সৌমিত্র ঘোষ থেকে যাবে আনটাচড!!
এই দ্বিচারিতা তৃণমূলের আমলেও ছিল। আপনারা সাড়ে তিন মাসেই তা রপ্ত করে ফেলেছেন। এই বিজেপি সরকার এত দ্রুত শেখে যে তার সঙ্গে পাল্লা দিতে উসেইন বোল্ট হতেই হবে, নইলে ভারি মুশকিল!!
















