হড়পা বানে মৃত্যুপুরী নেপাল (Nepal)। বিপর্যয়ের ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে, কিন্তু নেপাল সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলি সংরক্ষণ করা। মর্গে রাখার জায়গা আর নেই, হাসপাতালগুলিতেও জায়গার সঙ্কট। এইভাবেই পরিস্থিতি চলতে থাকলে গণসৎকারের (Mass Cremation) ব্যবস্থা করতে হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তাই পরিত্যক্ত ভবনকে অস্থায়ী সংরক্ষণকেন্দ্রে পরিণত করা থেকে শুরু করে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় দেহ পাঠানো বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। শুক্রবার সকালে নেপালের এক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭৫ হয়েছে।

চিতোয়ান জেলার (Chitwan District) পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জেলার সমস্ত মর্গ মিলিয়ে যেখানে মাত্র ৩০ থেকে ৫০টি দেহ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে, সেই জায়গা অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যেই সেখানে আরও ১৩৭টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকটি খালি বাড়িতে অস্থায়ী ভাবে প্রায় ২৫০টি দেহ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মৃতদেহ সংরক্ষণের (Preservation of Dead Bodies) জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক এবং শুকনো বরফের জোগান নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে উঠেছে।

উদ্ধার হওয়া দেহগুলির বড় অংশের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। প্রবল জলের স্রোতে বহু দেহ কয়েক কিলোমিটার দূরে ভেসে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের পক্ষে প্রিয়জনকে খুঁজে পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। নিখোঁজদের ছবি হাতে স্বজনেরা বিভিন্ন মর্গে (Morgue) ছুটছেন। অন্য দিকে, বর্তমানে ২ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দেহ সংরক্ষণ করা হলেও এই ব্যবস্থা সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৪ দিন কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন পোখারা অ্যাকাডেমি অফ হেল্‌থ সায়েন্সের অধিকর্তা সুশীল আরিয়াল (Sushil Aryal, Director of Pokhara Academy of Health Sciences)। সেই সময়ের মধ্যে শনাক্তকরণ না হলে প্রশাসনকে অশনাক্ত দেহগুলির গণসৎকারের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ছবি, ভিডিয়ো এবং ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ (Preservation of DNA samples) করে রাখা হবে বলে ভাবা হচ্ছে।

গত বুধবার রাসুয়া জেলায় (Rasuwa District) ভোটেকোশী নদীর (Bhote Koshi River) আচমকা ভয়াবহ স্রোতে তিব্বত সীমান্তবর্তী একাধিক গ্রাম বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকেই উদ্ধার অভিযান চলছে। এখনও প্রায় ১,৫০০ মানুষ নিখোঁজ। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিপর্যয়ের এই চাপের মধ্যেই ফের হড়পা বানের সম্ভাবনার খবর নেপাল প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।