বোলপুরের ত্রিশুলাপট্টিতে (Trishulapatti of Bolpur) বিজেপির বুথ সভাপতি চন্দন ভল্লাকে (BJP Booth President Chandan Bhalla) গুলি করে খুনের ঘটনায় তদন্তভার নিল CID। রবিবার রাতে এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি আততায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, চন্দনের মাথার পিছনের দিকে গুলি করা হয়েছিল। গুলিটি মাথা ভেদ করে সামনের দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সম্ভাব্য যাতায়াতের পথের সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এলাকায় সিসিটিভির সংখ্যা কম থাকায় তদন্তকারীদের সামনে রয়েছে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন: পর্দায় এবার ‘জাদুকর সত্যচরণ’! ম্যাজিক ও রহস্যের যুগলবন্দির মুখ্য ভূমিকায় প্রসেনজিৎ
ঘটনার পর থেকেই খুনের কারণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। মৃতের পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই চন্দনকে টার্গেট করা হয়েছিল। তাঁর স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, ভোটের আগে থেকেই তৃণমূলের স্থানীয় কয়েকজন নেতার তরফে হুমকি আসছিল। তবে পরিবারের এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশ রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি ব্যক্তিগত শত্রুতা-সহ অন্যান্য সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে।
পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় ত্রিশুলাপট্টিতে একটি দোকানে দাঁড়িয়ে ছিলেন চন্দন। সেই সময় একটি সাদা গাড়িতে কয়েকজন সেখানে আসে। পরে তাঁকে কাছের একটি অন্ধকার গলির দিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তাঁকে গুলি করা হয় অভিযোগ।
ঘটনার পর রাতেই পুলিশ কুকুর নিয়ে তল্লাশি চালায়। সোমবার ফের ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালানো হয়। ফরেনসিক দলও ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গতিবিধি সম্পর্কে কোনও সূত্র পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন: SIR নিয়ে জরুরি শুনানিতে ‘না’ বম্বে হাইকোর্টের, মামলা ২২ অক্টোবর
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে যান বীরভূমের পুলিশ সুপার (Superintendent of Police, Birbhum)। বিজেপির বিধায়করাও পরে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে (Bolpur Sub-divisional Hospital) পৌঁছে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। চন্দনের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত বোলপুরেই হবে, নাকি রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ (Rampurhat Medical College) বা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে (Burdwan Medical College) পাঠানো হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
CID-এর হাতে তদন্তভার যাওয়ায় এখন খুনের প্রকৃত কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় এবং এই ঘটনার পিছনে কোনও বৃহত্তর পরিকল্পনা ছিল কি না, সেই বিষয়গুলির উপরেই নজর তদন্তকারীদের। পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি অন্যান্য সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ছবি সামনে আনার চেষ্টা চলছে।















