পুজোর মরশুমের আগেই বাংলার কৃষকদের জন্য সুখবর কেন্দ্রের। খারাপ আবহাওয়া এবং বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা -র আওতায় কৃষকদের নাম নথিভুক্ত করার সময়সীমা বাড়াল কেন্দ্রীয় সরকার।  চলতি খরিফ মরশুমে দেরিতে বীজ বপন, অস্বাভাবিক আবহাওয়া এবং একাধিক জেলায় বন্যা হয়েছে বাংলায়।  কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ধান ও ভুট্টা-সহ বিজ্ঞাপিত সমস্ত ফসলের জন্য  কৃষকরা  আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফসল বিমার আওতায় নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন কৃষকরা।

কেন্দ্রের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্য। এই সিদ্ধান্তের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার আবারও প্রমাণ করল যে তারা কৃষককল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর কথায়, চলতি মরশুমে দেরিতে বীজ বপন এবং বন্যাকবলিত জেলার বাস্তব পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ময়সীমা বাড়ানোর ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। আরও বেশি সংখ্যক কৃষক ফসল বিমা প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসলের ক্ষতি হলে আর্থিক সুরক্ষাও নিশ্চিত হবে। 

 

কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের ক্রপ ইন্স্যুরেন্স ডিভিশনের জারি করা নির্দেশে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি দফতর গত ২৫ অগস্ট সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছিল। সেই আবেদনে বলা হয়েছিল, বিজ্ঞপ্তি জারিতে দেরি, বিরূপ আবহাওয়া সহ নানা সমস্যার কারণে বহু কৃষক এখনও প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেননি। বিষয়টি বিবেচনা করে এবং প্রকল্পে যুক্ত চারটি বিমা সংস্থার সম্মতির ভিত্তিতেই কেন্দ্র সময়সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলায় প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার আওতায় বিজ্ঞাপিত ফসলের জন্য প্রিমিয়াম জমা এবং কৃষকদের নাম নথিভুক্ত করার শেষ দিন হবে ১৫ সেপ্টেম্বর। এই বর্ধিত সময়ের মধ্যে যাঁরা প্রকল্পে যুক্ত হবেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রিমিয়াম ভর্তুকি প্রযোজ্য হবে।কৃষি মন্ত্রকের নির্দেশে আরও জানানো হয়েছে, এগ্রিকালচার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি অব ইন্ডিয়া, ইউনাইটেড ইন্ডিয়া ইন্স্যুরেন্স, আইসিআইসিআই লম্বার্ড এবং জেনারালি সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স— এই চারটি সংস্থাই সময়সীমা বৃদ্ধিতে সম্মতি দিয়েছে।

 

 

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, খরিফ মরশুমে অনিয়মিত বর্ষা ও বন্যার কারণে অনেক কৃষক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিমা করাতে পারেননি। সময়সীমা বাড়ানোর ফলে সেই কৃষকদের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হল। এর ফলে ফসলের ক্ষতি হলে আরও বেশি কৃষক বিমার সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং কৃষিক্ষেত্রে ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমবে।