বাঁকুড়ায় আব্দুল হাফিজের পরিবারের উপর হামলা ও তাঁর বাবার মৃত্যুর ঘটনায় ৪ দফা দাবি জানিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিল CJP। মঙ্গলবার কলকাতা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন  CJP আশুতোষ রাঙ্কা-সহ একাধিক প্রতিনিধিরা। এখানেই তাঁরা সরকারের কাছে ৪ টি দাবি রেখে ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন।

১. শেখ আব্দুলের পরিবারকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।
২. সিজেপির দাবি, আব্দুলের পরিবারের উপর হামলায় ১৫-২০ জন জড়িত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এখনও মাত্র ৪ জন ধরা পড়েছেন। ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে গ্রেফতার করতে হবে।
৩. এই ঘটনায় পুলিশদেরও অনেক গাফিলতি ছিল। অভিযুক্ত পুলিশদের উপর তদন্ত করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া। 
৪. আব্দুলের বাবা, মহম্মদ মাফিকের নামে একটা উন্নত মানের স্কুল খুলে দেওয়া।

CJP জানিয়েছে, তাঁদের প্রতিনিধি দল আব্দুলের বাড়িতে থেকে পরিবারের পাশে থাকবে। সরকারের কাছে যে দাবিগুলি জানানো হয়েছে, সেগুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেই বিষয়টিও প্রতিনিধি দলের সদস্যরা নজরে রাখবেন। সরকারকে দাবি পূরণের জন্য ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দাবিগুলি পূরণ না হলে SDM অফিস ঘেরাও করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন CJP কর্তারা।

CJP-র সাউথ জোনের হেড তথা সোশ্যাল মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর বিজয় রেড্ডি মালাঙ্গা জানান, আব্দুলকে এক কোটি টাকা আর্থিক সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আব্দুল নিজে আর্থিক সাহায্য নিতে চাননি বলে সেই উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে সংগঠন। এর পরিবর্তে আব্দুলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সাহায্যের আবেদন জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে CJP। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার আব্দুলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট প্রকাশ করা হবে। সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁকে আর্থিক সাহায্য করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।

বিজয় রেড্ডি মালাঙ্গা আরও দাবি করেন, গত ২-৩ বছরে রাজ্যের প্রায় ৮০ হাজার সরকারি স্কুল বেহাল অবস্থায় রয়েছে। স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া যুবকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনও যুবক স্কুল সংস্কারের উদ্যোগ নিলে তাঁকে যেন হামলা বা হত্যার শিকার হতে না হয়।

এরই মধ্যে উত্তর কলকাতায় CJP-র পূর্বনির্ধারিত ‘কলকাতা মিট-আপ’ বাতিল হওয়াকে ঘিরেও রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। CJP নেতা আশুতোষ রাঙ্কার অভিযোগ, বিজেপি নেতাদের হুমকি এবং রাজ্য প্রশাসনের চাপের কারণে ভারত সভা হলের বুকিং বাতিল করা হয়েছে। একই কারণে উত্তর কলকাতার আরও প্রায় ছ’টি হল অনুষ্ঠান আয়োজনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও দাবি তাঁর। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, তাঁদের কর্মসূচি আটকানোর চেষ্টা করা হলেও CJP আরও বড় পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছবে। তবে বিজেপি বা রাজ্য প্রশাসনের তরফে এই অভিযোগের সমর্থনে কোনও বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি। এই নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। রাজ্য সরকারের পদক্ষেপের নিন্দা করেন তিনি। 

CJP-র দাবি, তারা প্রচলিত অর্থে রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, বরং একটি ‘পলিটিক্যাল প্রেসার গ্রুপ’ হিসেবে কাজ করতে চায়। সামাজিক ও নাগরিক বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের উপর চাপ তৈরি করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে। এই চার দফা দাবি এবং ১০ দিনের সময়সীমা ঘিরে আগামী দিনে রাজ্য সরকারের সঙ্গে CJP-র সংঘাত আরও বাড়ে কি না, এখন সেটাই দেখার।