দেশে বিজেপি (BJP) ক্ষমতায় আসার পর বন্ধ হয়েছে একের পর এক সরকারি স্কুল (Government School)। আর তা নিয়ে দেশের একাধিক রাজ্যে পথে নেমেছে বিজেপি-বিরোধী শক্তিরা। সরব হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টিও (Cockroach Janta Party)। এ রাজ্যেও ছবিটা আলাদা নয়। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরেই একসঙ্গে ৯৩৩টি সরকারি স্কুল পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে বিজেপি সরকার। স্কুল আছে, শিক্ষক আছেন, প্রতিদিন নিয়ম করে স্কুলের দরজাও খুলছে। কিন্তু ক্লাসরুমে বসার মতো কোনও পড়ুয়া নেই। রাজ্যের একাধিক জুনিয়র হাই স্কুলের ছবিটা এখন এমনই। ছাত্রছাত্রী না থাকায় স্কুলগুলি কার্যত অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। রাজ্যজুড়ে ছাত্রশূন্য স্কুল বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হতেই সেই ছবিটাই যেন আরও স্পষ্ট হয়ে সামনে আসছে।
আরও পড়ুন: মিলনের জামিন নিয়ে নির্দেশ দিল না আদালত, মঙ্গলে রায়ের সম্ভাবনা
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র হাই স্কুলগুলি। হুগলি থেকে কলকাতা, বিভিন্ন জায়গায় এমন স্কুলের সংখ্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতির পিছনে রয়েছে একাধিক কারণ। ২০১০ সালের পর শিক্ষার অধিকার আইনের হাত ধরে বহু জুনিয়র হাই স্কুল তৈরি হয়েছিল। তবে তারও আগে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় শিক্ষা দিয়ে এসেছে। হুগলির হরিপাল ব্লকের চিত্রশালী জুনিয়র হাই স্কুল তারই একটি উদাহরণ। ১৯৭৩ সালে তৈরি এই স্কুলের বর্তমান ছবিটা অবশ্য একেবারেই আলাদা।
আরও পড়ুন: জ্ঞানেশ গদ্দার: কালো কালিতে ছয়লাপ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের আগরার বাড়ি
শিক্ষকদের বক্তব্য, ২০১৯ সালে প্রাথমিক স্তরেই পঞ্চম শ্রেণি যুক্ত হওয়ার পর থেকেই জুনিয়র হাই স্কুলগুলির প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহ কমতে শুরু করে। এই স্কুলগুলিতে মূলত ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি থাকায় পড়াশোনার পর ফের অন্য স্কুলে ভর্তি করানোর চিন্তা করতে হয় অভিভাবকদের। ফলে অনেকেই শুরু থেকেই সন্তানকে অন্য স্কুলে ভর্তি করান।
তার উপর করোনার সময় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। চিত্রশালী জুনিয়র হাই স্কুলের শিক্ষক তুষার বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ২০১৮ সালের পর থেকেই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা দ্রুত কমতে শুরু করে। করোনা পরবর্তী সময়ে সেই সংখ্যা আরও নেমে যায়। একসময় মাত্র তিন-চারজন পড়ুয়া ছিল। এখন সেই সংখ্যাও নেই।
বর্তমানে চিত্রশালী স্কুলে চারজন শিক্ষক রয়েছেন। অথচ পড়ুয়া একজনও নেই। শিক্ষকরা এলাকায় ঘুরে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছেন, নতুন করে ছাত্রছাত্রী আনার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাতেও স্কুলে পড়ুয়া ফেরানো সম্ভব হয়নি। হুগলিতে এমন আরও সাত-আটটি জুনিয়র হাই স্কুল রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে, যেখানে বর্তমানে কোনও পড়ুয়া নেই।
আরামবাগের নারায়ণপুর জুনিয়র হাই স্কুলেও ছবিটা প্রায় একই। শিক্ষক সুকীর্তি গুপ্ত জানাচ্ছেন, ২০১১ সালে স্কুলটি শুরু হয়। ২০১৫ সালে তিনি সেখানে বদলি হয়ে যাওয়ার সময় স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ছিল খুবই কম। পরে একসময় ৬০ জন পর্যন্ত পড়ুয়া ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই সংখ্যাও কমতে কমতে এখন শূন্যে এসে ঠেকেছে।
শুধু গ্রাম বা মফস্সল নয়, কলকাতাতেও একই সংকট দেখা দিয়েছে। নাকতলা ভারতী স্কুল প্রায় চার বছর আগেই পড়ুয়াশূন্য হয়ে যায়। স্কুলটিকে টিকিয়ে রাখতে তৎকালীন শিক্ষিকা উমা সরকার ২২ জন পড়ুয়া জোগাড়ের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই চেষ্টাও শেষ পর্যন্ত স্কুলটিকে বাঁচাতে পারেনি। পরে উমা সরকার-সহ শিক্ষিকাদের অন্য স্কুলে বদলি করা হয়।
















