আসর সাজিয়ে বসে ছবি তোলা নয়, জনতার কথা শুনে তার সমাধানের রাস্তায় বাতলে দিচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। পাশে দাঁড়াচ্ছেন অভিভাবকের মতো। একদিকে প্রশাসনিক কাজ, দলের কাজ, আর তার সঙ্গে জনসংযোগ- এই ভাবেই তিনদিক সামলে এগিয়ে চলেছেন নয়া বিজেপি (BJP) সরকারের প্রশাসনিক প্রধান।
প্রতি শনিবার জনতার দরবারে হাজির থাকেন শুভেন্দু। সেখানে কোথাও হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে হাজির হন অশীতিপর দম্পতি, আবার কোথাও অসহায় মহিলারা জানান নিজেদের অভিযোগের কথা। দেখা যায় টলিউডের সেলেব থেকে শুরু করে সমাজকর্মীদেরও। তেমনই একটা শনিবার ছিল আজ। মাত্র দু মাসের মধ্যেই বাংলার মানুষের ভরসা আদায় করে নেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে বসিরহাট থেকে ৫ বছরের অসুস্থ সন্তান কোলে হাজির হন অসহায় বাবা। জন্ম থেকেই সিরোসিস অব লিভার রোগে আক্রান্ত ছোট্ট সৌম্যজিত্। প্রতি শনিবার মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষের কথা শোনেন জানতে পেরে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট থেকে শিশু সন্তান কোলে হাজির হন সঞ্জীব পাল (Sanjeev Paul)।
জন্ম থেকেই এই দুরারোগ্য সিরোসিস অব লিভার রোগে আক্রান্ত বছর পাঁচেকের সৌম্যজিত্। চিকিৎসকরা (Doctors) জানিয়েছেন, সুস্থ হতে লিভার (Liver) প্রতিস্থাপন করতে হবে। প্রয়োজন মোট ৩০ লক্ষ টাকা। দিল্লির (Delhi) হাসপাতালে অস্ত্রোপচার হবে। কিন্তু সাধারণ দিন আনা-দিন খাওয়া পরিবার এত টাকা জোগাড় করবে কোথা থেকে? সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন কেউ কেউ। জোগাড় হয় ১৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু বাকি টাকা? আকাশপাতাল ভেবে শেষপর্যন্ত সৌম্যজিৎকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে হাজির হন বাবা সঞ্জীব। ছিলেন ‘মিশন সৌম্যজিৎ’-এর প্রতিনিধিরাও।
অসুস্থতার সব তথ্য খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়ে দেন সৌম্যজিতের চিকিৎসার জন্য ১০ লক্ষ দেবেন। দিল্লির যে হাসপাতালে চিকিৎসা হবে, সেখানে সরাসরি টাকা পাঠানো হবে। বাকি পাঁচ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করবে পরিবার।
এইভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানোয় মুখ্যমন্ত্রীকে অকুণ্ঠ ধন্যবাদ জানিয়েছে পাল পরিবার। ছোট্ট সৌমজিৎ সুস্থ হয়ে নতুন ভাবে জীবন শুরু করতে পারবে- এই আশায় বুক বাঁধছেন তার বাবা-মা।
















