মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস নিয়ে টানাপোড়েনের শেষ নেই। এরমধ্যে নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর শিবিরের পক্ষেই রায় দিয়েছে আলিপুর আদালত এমনই দাবি করেছেন ঋতব্রত। আদালতের রায়ে যা বলেছে তা ঋতব্রত জানিয়েছেন, অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন কমিটিই তৃণমূল কংগ্রেসের যাবতীয় বিষয়-আশয় পরিচালনার একমাত্র বৈধ অধিকারী। 

ঋতব্রত জানান, আলিপুর আদালতের এই রায়ের কপি হাতে পেলে তা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে নিজেদের স্বপক্ষে প্রমাণ আরও জোরাল করতে। রবিবার উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রতের কথায়, "অরূপ রায় আমাদের চেয়ারপার্সন ঘোষিত হন। তারপর তৃণমূলের নাম করে কিছু লোক আমাদের নানা পার্টি অফিসে ঢুকে অশান্তি করছিল। তার ভিত্তিতেই সাধারণ তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা আলিপুর আদালতে একটা মামলা করেছিলেন। রায় বলেছে, গত ২২ জুন জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের ভিত্তিতে যে কমিটি তৈরি হয়েছিল, সেটাই একমাত্র আইনগত স্বীকৃত দল। কেউ আসল-নকল বিতর্ক তৈরি করতে চাইলে বলব, আদালতের এই রায় দেখে নিন। এই কমিটি বাদে কেউ নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করলে সেটা অবৈধ।এই কমিটি বাদে আর কেউ যদি তাদের নিজেদের কমিটি মেম্বার বলে দাবি করে তাহলে তাদের এসব থেকে দূরে থাকতে বলা হচ্ছে।” 

আলিপুর কোর্টের রায়ের নথি দেখিয়ে ঋতব্রত দাবি করেন যে পার্টি অফিস এবং দলীয় তহবিলের বিষয়টিও তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন। তাঁর বক্তব্য, "পার্টির তহবিল অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না, পার্টি অফিসও ব্যবহার করা যাবে না। বিশেষ করে মেট্রোপলিটনের তৃণমূল ভবন ঋতব্রত শিবিরের সদস্য ছাড়া অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না। কেউ যদি অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন কমিটি ছাড়া অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নামে কোনও কাজ করতে চান, সেটা পারবেন না।"

আলিপুর আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে ঋতব্রতর প্রতিক্রিয়া, "আমরা যে দাবি করেছিলাম, আদালত তাকেই সিলমোহর দিয়েছে। নিয়মনীতি মেনে পার্টির ফান্ড, নাম- এসব আমরা ছাড়া অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। যারা পার্টি অফিসগুলোয় জোর করে ঢুকতে যাবেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনত পদক্ষেপ করব। মগের মুলুক চলবে না।" 

পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য দ্রুত আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ঋতব্রতরা। গায়ের জোরে 'আইন-কানুন না মেনে' চলার দিন যে শেষ, তা মনে করিয়ে দিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঋতব্রত।