বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় বড়সড় পদক্ষেপ পুলিশের। রণক্ষেত্রের চেহারা নেওয়া ওই এলাকায় অশান্তিতে সরাসরি প্ররোচনা ও উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে। তাঁর বিরুদ্ধে আগেই এফআইআর দায়ের করেছিল বারুইপুর থানার পুলিশ। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অবশেষে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় এই প্রথম কোনও রাজনৈতিক নেতা পুলিশের জালে ধরা পড়লেন। ধৃত লাহেক আলি গত বিধানসভা নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট প্রার্থী ছিলেন।

সূর্যপুরে নাবালিকার নৃশংস নির্যাতন ও খুনের ঘটনার পর এলাকা জুড়ে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়। অভিযোগ, সেই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাস্তা অবরোধ, ভাঙচুর এবং খোদ পুলিশকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে, গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় ইন্দ্রজিৎ নামে এক টোটো চালকের। পরে অবশ্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মৃত টোটো চালকের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ও চাকরির ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন অর্থাৎ রবিবার আন্দোলনের সময় লাহেক আলি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উস্কানি ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তে উঠে আসা নানা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই বাম নেতাকে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামিকাল ধৃতকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে। এই হিংসাত্মক ঘটনায় লাহেক আলি ছাড়া আর কারা নেপথ্যে থেকে ইন্ধন জুগিয়েছিলেন বা কাদের ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত জারি রেখেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের রাডারে আরও বেশ কয়েকজন রয়েছেন বলে খবর।