ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে বাড়ি ফেরার পথে আচমকা নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন বছর বাইশের এক তরুণী গৃহবধূ। পরিবারের লোকজন রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনও সন্ধান পাননি। অবশেষে বুধবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে একটি স্থানীয় ক্লাব ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার হল ওই বধূর ঝুলন্ত মৃতদেহ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি ব্লকের মাগুরমারি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চয়েতের গিলান্ডী এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত গৃহবধূর নাম রঞ্জিতা রায়। পরিবারের দাবি, তরুণীকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছে। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নিরঞ্জন পাট এলাকার বাসিন্দা রঞ্জিতা রায় মঙ্গলবার দুপুরে স্বামীর সঙ্গে তাঁদের কোলের ছোট সন্তানকে নিয়ে ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন। ব্যাঙ্ক থেকে তাঁরা একসাথেই বাড়ি ফিরে আসেন। কিন্তু ব্যাঙ্কের কিছু কাজ বাকি থেকে যাওয়ায় বিকেল নাগাদ ফের একা ব্যাঙ্কে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন রঞ্জিতা। ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার পর তিনি পরিবারের সঙ্গে মোবাইলে কথাও বলেছিলেন। কিন্তু তারপর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও রঞ্জিতা বাড়ি না ফেরায় স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা তাঁর খোঁজ শুরু করেন।
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে ধূপগুড়ি থানায় নিখোঁজের বিষয়টি জানাতে গেলে পুলিশ জানায়, ২৪ ঘণ্টা পূর্ণ না হলে মিসিং ডায়েরি নেওয়া যাবে না। ফলে বাধ্য হয়েই তাঁরা বাড়ি ফিরে আসেন এবং রাতভর নিজেদের মতো করে খোঁজ চালান। বুধবার সকালে গিলান্ডী ভান্ডানী এলাকার বাসিন্দারা স্থানীয় ওই ক্লাব ঘরের ভেতরে কিছু একটা ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে দেখা যায়, ক্লাব ঘরের ভেতরে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছে রঞ্জিতার দেহ। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবারের সদস্যরা রঞ্জিতার দেহ শনাক্ত করেন। মৃতার ব্যাগ থেকে একটি সদ্য কেনা নতুন জামাও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার পর ওই জামাটি কেনা হয়েছিল।
কী কারণে রঞ্জিতা ওই ক্লাব ঘরে গেলেন, নাকি তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যা অম্বিকা রায় বলেন, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটে গেল আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। ব্যাঙ্কের কথা বলে বাড়ি থেকে বেরনোর পর আর খোঁজ মেলেনি। আজ ঝুলন্ত দেহ মিলল। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও রহস্য বা পুরনো শত্রুতা রয়েছে কি না, তা জানতে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ।
















