নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় ঘরছাড়া এক সংখ্যালঘু পরিবারকে নিজেদের ভিটেয় ফেরানোর নামে মোটা অঙ্কের টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠল এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত কুণাল ব্রহ্ম বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি মণ্ডল সভাপতি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি অডিও ক্লিপ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় (যার সত্যতা যাচাই করেনি বিশ্ব বাংলা সংবাদ) তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে।

অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী অশান্তির জেরে বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার পিফা পঞ্চায়েতের স্বেতপুর ও গাজীপাড়া এলাকার একটি সংখ্যালঘু পরিবার ঘরছাড়া হয়। ওই পরিবারের সদস্য নাজমুলের দাবি, শুধুমাত্র বিজেপি করার অপরাধে তাঁর দুধের শিশু, স্ত্রী এবং বৃদ্ধ বাবা-মাকেও দীর্ঘদিন ঘরছাড়া হয়ে থাকতে হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।

সম্প্রতি রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ওই পরিবারকে ঘরে ফেরানোর আশ্বাস দেন বসিরহাট দক্ষিণের বিজেপি মণ্ডল সভাপতি কুণাল ব্রহ্ম এবং তাঁর সহযোগী সৌভিক শীল। সৌভিক সম্প্রতি যুব তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে জেল খাটার রেকর্ডও রয়েছে। নাজমুলের পরিবারের অভিযোগ, ঘরে ফেরানোর নাম করে প্রথম দফায় তাঁদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন কুণাল ও সৌভিক। শুধু তাই নয়, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের নাম করেও এই টাকা চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ওডিও ক্লিপে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরাতে গেলে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলি মেটাতে কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজার ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে 'সেটিং' করতে হবে। আর সেই কারণেই এই টাকার প্রয়োজন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা কুণাল ব্রহ্মের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

অবশেষে অবশ্য পুলিশের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মেটে। বসিরহাট থানার পুলিশ প্রশাসন এবং বসিরহাট দক্ষিণের বিজেপি নেতা শৌর্য্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে গত ১ জুলাই নাজমুলের পরিবার নিরাপদে নিজেদের ঘরে ফিরে এসেছে। তবে ঘরে ফিরলেও, দলেরই এক নেতার বিরুদ্ধে ওঠা এই তোলাবাজির অভিযোগ ঘিরে অস্বস্তিতে পড়েছে স্থানীয় পদ্ম শিবির।