নেপালের হড়পা বান বিপর্যয়ের পরে কেটে গিয়েছে আটদিন। কিন্তু এখনও খোঁজ মেলেনি মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের (Sharmistha Bhowmik Ray)। স্ত্রীকে খুঁজে পেতে এ বার সমাজমাধ্যমের সাহায্য চাইলেন তাঁর স্বামী শুভ্রাংশু রায় (Subhranshu Ray)। শর্মিষ্ঠার ছবি, নেপালে তাঁর যাত্রা সংক্রান্ত তথ্য এবং যোগাযোগের নম্বর দিয়ে একটি পোস্টার প্রকাশ করেছেন তিনি। কারও কাছে শর্মিষ্ঠার বিষয়ে কোনও তথ্য থাকলে নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করার আবেদন জানানো হয়েছে। সেইসঙ্গে ইতিমধ্যেই শর্মিষ্ঠার ডিএনএ (DNA) স্যাম্পল নিয়ে যাওয়া হয়েছে সাগর দত্ত হাসপাতালে।
কলকাতার পর্যটন সংস্থা (Kolkata Travelling Agency) ‘চলো যাই’-এর উদ্যোগে ৩২ জনের একটি দল গত ২১ অগাস্ট নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়। দলের গন্তব্য ছিল মানসরোবর। শুভ্রাংশুর দাবি, ওই পর্যটকদলের সঙ্গেই নেপালে গিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। পরিবারের তরফ থেকে একাই গিয়েছিলেন তিনি। তবে গত বুধবার নেপালে বিপর্যয় ঘটার পরে থেকেই তাঁর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শুভ্রাংশুর প্রকাশ করা পোস্টারে শর্মিষ্ঠার নাম ও ছবি রয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, বিপর্যয়ের আগে তিনি নেপালের ‘শুভম গেস্ট হাউস’-এ ছিলেন। তাঁকে শেষবার গিরং পোর্ট এলাকায় দেখা গিয়েছিল বলেও পোস্টারে দাবি করা হয়েছে। শর্মিষ্ঠার সন্ধান পেতে যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয়েছে ৯০৫১৩৭৭০৬৮ নম্বরটি।
বিপর্যয়ের পর নেপালে নিখোঁজ বাংলার বাসিন্দাদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল রাজ্য সরকার। সেই তালিকাতেও শর্মিষ্ঠার নাম রয়েছে। নিখোঁজদের দ্রুত সন্ধান পেতে প্রশাসনের তরফে সব রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও (Suvendu Adhikari) শুভ্রাংশু ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে নিখোঁজদের উদ্ধারের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার শুভ্রাংশু জানান, এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফে শর্মিষ্ঠার বিষয়ে কোনও আশাব্যঞ্জক খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট পর্যটন সংস্থার কাছ থেকেও মেলেনি কোনও নিশ্চিত তথ্য।
‘চলো যাই’ সংস্থার প্রজেক্ট হেড যশজিৎ বসু জানিয়েছেন, নিখোঁজ চার পর্যটকের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর নেপালে যাওয়া হয়েছিল। শুভ্রাংশুকেও তাঁদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য ফোন করা হয়েছিল। তবে সন্তানদের দেখভালের দায়িত্ব থাকায় তিনি যেতে পারেননি। যাঁরা নেপালে গিয়েছিলেন, তাঁরা সেখানকার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেছেন এবং নেপাল প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। পরিবারের সদস্যদের নেপালে ডিএনএ নমুনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ দিকে, নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারের পাশাপাশি বাকি পর্যটকদেরও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে। রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের উদ্যোগেই এই নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে খবর। পরে সেই নমুনাগুলির পরীক্ষা করা হতে পারে। পরীক্ষার রিপোর্ট নেপাল সরকারের নির্দিষ্ট ই-মেল ঠিকানায় পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন যশজিৎ।
নিখোঁজদের সন্ধানে ডিএনএ পরীক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, বিপর্যয়ের পরে উদ্ধার হওয়া পরিচয়হীন দেহগুলির শনাক্তকরণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে নেপাল সরকার। দেহগুলি সমাধিস্থ করার আগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনও পরিবার নিখোঁজ সদস্যের সন্ধানে এলে সেই নমুনার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেই এই ব্যবস্থা।
















