বর্ষার মরসুমের বিরতি কাটিয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজ্যের সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলি পর্যটকদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে। তবে জঙ্গল খোলার সঙ্গেই বনাঞ্চলে প্রবেশের ক্ষেত্রে এন্ট্রি ফি ও পর্যটকবাহী যানবাহনের ওপর পথকর (রোড ট্যাক্স) পুনরায় কার্যকর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ডুয়ার্স সহ উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চলে ভ্রমণের ব্যয় এক ধাক্কায় বেড়ে যাওয়ায় পর্যটক ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি আলিপুরদুয়ারের প্যারেড গ্রাউন্ডের এক প্রশাসনিক সভা থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটকদের টানতে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে প্রবেশমূল্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন। তবে প্রশাসন পরিবর্তনের পর বর্তমান সরকারের আমলে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে ফের পুরনো ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুসারে, পর্যটকদের প্রবেশমূল্যের পাশাপাশি পর্যটকবাহী গাড়িগুলির ক্ষেত্রেও পথকর দিতে হবে। এর ফলে ডুয়ার্স ভ্রমণের সামগ্রিক খরচে প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় রিসর্ট মালিক ও গাড়িচালকরা।
যদিও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও জানিয়েছেন, বনদফতরের আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা করতে এবং রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তায় আগের নির্ধারিত হারেই এই ফি চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, প্রবেশমূল্য পর্যালোচনার জন্য ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তীতে এই ফির হার কমানো বা সমন্বয় করার বিষয়ে বিবেচনা করা হতে পারে।
এদিকে অনলাইন ব্যবস্থা পুরোপুরি চালুর আগে ম্যানুয়াল কাউন্টারে টাকা নেওয়া এবং পর্যটন মরসুমের শুরুতেই এই অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অংশীদারদের মতে, বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকার অর্থনীতি পর্যটকদের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তাই প্রবেশমূল্য ও করের এই পুনর্বিন্যাস পর্যটকদের আনাগোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
















