হালিশহরে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর এই ঘটনাকেই সামনে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘দ্বিমুখী নীতি’র অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন, হালিশহরে আর্থিক সাহায্য করার সিদ্ধান্ত যদি সমর্থনযোগ্য হয়, তা হলে আরজি কর-কাণ্ডের সময় একই ধরনের সরকারি আর্থিক সাহায্য নিয়ে এত প্রশ্ন তোলা হয়েছিল কেন?
আরও পড়ুন: চুঁচুড়ায় বামেদের 'জেল ভরো' কর্মসূচিতে ধুন্ধুমার! পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ
সোশ্যাল মিডিয়ায় কুণাল লেখেন, পুলিশ হেফাজতে মৃত তৃণমূল কর্মী বিরজু কোয়েটের স্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী ১০ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, টাকা দিয়ে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না ঠিকই, কিন্তু সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থা রয়েছে। সেই কারণেই শুভেন্দু অধিকারীর ১০ লক্ষ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেন।
আরও পড়ুন: হালিশহরে মমতার উপর হামলার প্রতিবাদে উত্তাল বাংলা
তবে একই সঙ্গে আরজি কর-কাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে বিজেপিকে নিশানা করেছেন কুণাল। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সাহায্যের কথা বলতেই বিরোধীরা ‘টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা’ বলে প্রচার করেছিল। আর্থিক সাহায্যের সরকারি ব্যবস্থাকে ঘুষের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ তাঁর। বিধায়কের প্রশ্ন, "একই ১০ লক্ষ টাকা এক ক্ষেত্রে সাহায্য, আর অন্য ক্ষেত্রে কেন ঘুষ বা মুখ বন্ধের চেষ্টা?" তাঁর দাবি, ক্ষতিপূরণের অর্থ নির্ধারণে সরকারি নিয়ম রয়েছে এবং এর সঙ্গে ঘুষের কোনও সম্পর্ক নেই।
হালিশহরের ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই কুণালের এই মন্তব্য নতুন করে আরজি কর-কাণ্ডের সময়কার বিতর্ক সামনে এনেছে। তাঁর বক্তব্য, ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে যদি এখন বিজেপির তরফেও সমর্থন করা হয়, তা হলে অতীতে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলার যুক্তি নিয়েই প্রশ্ন থাকছে। যদিও বিজেপির তরফে কুণালের এই অভিযোগের জবাব এখনও মেলেনি।
















