আদালতের নির্দেশ মেনেই করা ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসের সভা নিয়েও অভিযোগ! নির্দেশ লঙ্ঘন হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পরই এর তীব্র প্রতিবাদ জানাল তৃণমূল (TMC)। শনিবার, বেলেঘাটার বিধায়ক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ আইন মেনে রাস্তার একটি লেন ছেড়ে ক্যাথিড্রাল রোডে সভা করেছি। যদিও আরও বেশি সংখ্যায় মানুষ ওই সভায় আসতে চাইছিলেন। কিন্তু আমরা আদালতের নির্দেশ মেনে সব লোককে সভায় আনতে পারিনি।“
কুণালের কথায়, “একুশে জুলাইয়ের সভাতেও একই ঘটনা ঘটেছিল। সেদিনও আমরা না-চাইতেই জনসমুদ্র হয়ে গিয়েছিল। সেই নিয়েও মামলা হয়েছিল। এবার আরও একটা মামলা। আমরা তো আদালতকে সম্মান দিচ্ছি। কিন্তু মানুষ যদি বেশি সংখ্যায় এসে যান, কী করা যাবে। আমরা আদালতকে সম্মান জানিয়েই বলছি, আমাদের তো মানুষের আদালতকেও সম্মান জানাতে হবে। আর যদি এত মানুষ এসে যান, তা হলে তো তাদের সামলানোর দায়িত্ব পুলিশের। তাঁরাই বা এত মানুষকে এতদূর আসতে দিলেন কেন? একটা সময় সভার পাশের ফুটপাতে এত মানুষ হয়ে গিয়েছিল যে সেখানে স্ট্যামপেড হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তখন তারা যদি রাস্তায় নেমে আসতেন রাস্তা বন্ধ হয়ে যেত। আপনারা দেখেছেন, ওই পরিস্থিতি দেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চ থেকে বারবার বলছিলেন রাস্তাটা খালি করে দেওয়ার জন্য। আমি নিজে ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়েরা রাস্তায় নেমে কর্মীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে একের পর এক গাড়ি পাস করিয়েছি। পুলিশের সঙ্গে সবরকমভাবে সহযোগিতা করেছি। এসবই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা।“
এরপর বেইমানদের উদ্দেশ্য করে কুণাল বলেন, “আরে ওদের সভায় তো লোক হয় না! এই রাজ্য সরকার যাদের মদত দিচ্ছে, সেখানে লোকই হয় মা। শুধু প্লাস্টিকের ফাঁকা চেয়ার পড়ে থাকে। আর আমাদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় জনসমুদ্র হয়ে যায়। উল্টে আমাদের হাতজোড় করে বলতে হয়, আপনারা দয়া করে কোর্টের রায়টা মেনে চলুন। তাই ওদের এত ঈর্ষা, এই হিংসা।“ ওদের লোক হচ্ছে না, আর ক্যাথিড্রাল রোডের সভায় উপচে পড়া লোক, তাই হিংসায় এই সব মামলা করা হচ্ছে বলেও পাল্টা অভিযোগ করেন কুণাল।
এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন তৃণমূলের আরও এক বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও (Sovandev Chatterjee)। তিনি বলেন, “কোনও আইন ভাঙা হয়নি। আদালতের যে সীমারেখা ছিল তার মধ্যেই সভা করা হয়েছে। তবে এটা পাবলিক রোড, কোনও পাবলিককে আমরা আটকাতে পারি না। পুলিশ বাউন্ডারি বেঁধে দিয়েছিল, আমরা তার মধ্যেই ছিলাম। বাউন্ডারির বাইরে কেউ যাইনি।“
















