অগ্নিকাণ্ডের মোকাবিলায় দমকলের (Fire Brigade) হাতে এবার ২২৬টি আধুনিক যান। সরু ও ঘিঞ্জি রাস্তায় দ্রুত পৌঁছতে নামানো হচ্ছে ২৮টি বিশেষ দমকল পরিবাহী বাইক। বুধবার রেড রোড (Red Road) থেকে এই নতুন অগ্নিসুরক্ষা পরিকাঠামোর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একই সঙ্গে দমকল বাহিনীতে দ্রুত ১,৮০০ কর্মী নিয়োগের ঘোষণা করলেন তিনি। ভবিষ্যতে আরও আড়াই হাজার কর্মী নিয়োগ করা হবে বলেও এদিন জানান মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের ‘ভণ্ডামি’ ফাঁস রাষ্ট্রসঙ্ঘে, সপাট জবাব ভারতের
নতুন যানের তালিকায় রয়েছে ৩টি আর্টিকুলেটিং ওয়াটার টাওয়ার, ১৯৮টি মিড সাইজ ওয়াটার টেন্ডার এবং ২৫টি মাল্টি পারপাস ফায়ার টেন্ডার। এর মধ্যে বিশেষ নজর কাড়ছে আর্টিকুলেটিং ওয়াটার টাওয়ার। বহুতলে আগুন লাগলে প্রায় ৩৬ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত জল স্প্রে করতে সক্ষম এই বিশেষ যান। ফলে উঁচু ভবনে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় দমকলের ক্ষমতা আরও বাড়বে।
শহরের সরু রাস্তা, ঘিঞ্জি এলাকা কিংবা যানজটপূর্ণ জায়গায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর জন্য চালু করা হয়েছে ২৮টি বিশেষ দমকল পরিবাহী বাইক। অন্যদিকে, মিড সাইজ ওয়াটার টেন্ডারগুলিতে রয়েছে জলের ট্যাঙ্ক, শক্তিশালী জল পাম্প, হোস পাইপ এবং অগ্নিনির্বাপণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। মাল্টি পারপাস ফায়ার টেন্ডারে আগুন নেভানোর পাশাপাশি জরুরি উদ্ধারকাজের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বহনের সুবিধা রয়েছে।
তবে নতুন গাড়ি ও সরঞ্জামের পাশাপাশি দমকল বাহিনীর কর্মী সংখ্যাতেও জোর দিচ্ছে রাজ্য। দ্রুত ১,৮০০ কর্মী নিয়োগের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরবর্তী সময়ে আরও আড়াই হাজার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।
এ দিনের অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক দুই বড় অগ্নিকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তারাপীঠ এবং নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডে দমকল কর্মীদের দ্রুত তৎপরতার প্রশংসা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, তারাপীঠের ঘটনায় বিকেল ৫টা ৩ মিনিটে দমকলে ফোন আসে। মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে, ৫টা ১৮ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল। দ্রুততার সঙ্গে ময়দানে নেমে কাজ করার সেই স্বীকৃতিও এবার মিলবে। তারাপীঠ ও নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডে কাজ করা দমকলকর্মীদের "জীবন রক্ষার মেডেল" দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষায় দমকল বাহিনীর ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই পদক্ষেপ।
















