খাদ্য দফতরের চাল পাচার ঘিরে চাঞ্চল্য। ঘটনাটি ঘটেছে বসিরহাটের হাড়োয়া থানার অন্তর্গত বকজুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের মাজমপুর এলাকায়।
পাচারের আগে ট্রাক ভর্তি সরকারি চাল আটকই তার বলিষ্ঠ প্রমাণ। অবশেষে পুলিশ বাজেয়াপ্ত করল ৩২০ কুইন্টালের বেশি চাল। ঘটনায় গ্রেফতার দুই। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ক্ষমতায় আসার আগে দুর্নীতি নিয়ে বড় বড় বুলি আউড়েছিল বিজেপি। সরকার পরিবর্তন হতেই অন্নপূর্ণা যোজনা, আইনশৃঙ্খলা, হকার উচ্ছেদের মতো একাধিক ইস্যু নিয়ে মুখ পুড়ছে বিজেপির। এবার সেই তালিকায় জুড়ল চাল পাচারের অভিযোগ। এবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য দফতরের লোগো দেওয়া বস্তাতেই বিপুল পরিমাণ চাল পাচারের অভিযোগ সামনে এল। ভিনরাজ্যে পাচারের আগেই চাল বোঝাই ট্রাক আটক করল হাড়োয়া থানার পুলিশ। ঘটনায় ট্রাকচালক ও গোডাউন মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৬৪০ বস্তা চাল, যার মধ্যে ২১০ বস্তায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের লোগো রয়েছে। উদ্ধার হওয়া চালের পরিমাণ ৩২০ কুইন্টালেরও বেশি বলে পুলিশ ও খাদ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের লোগো দেওয়া চাল পাচারের অভিযোগ পাচ্ছিল হাড়োয়া থানার পুলিশ। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হাড়োয়া থানার পুলিশ মাজমপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় পুলিশ দেখতে পায়, অন্ধ্রপ্রদেশের নম্বরযুক্ত একটি ট্রাকে বিপুল পরিমাণ চালের বস্তা তোলা হচ্ছে। সন্দেহ হওয়ায় তৎক্ষণাৎ ট্রাকটি আটক করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করে শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। তদন্তে পুলিশ আরও একটি গোডাউনের সন্ধান পায়। সেখানে বিপুল পরিমাণ চাল মজুত ছিল। খবর দেওয়া হয় খাদ্য দফতরের আধিকারিকদের। তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালের বস্তাগুলি পরীক্ষা করেন এবং ৬৪০ বস্তা চাল বাজেয়াপ্ত করেন। এর মধ্যে ২১০ বস্তা চালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য দফতরের লোগো রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় ট্রাকচালক ও গোডাউন মালিককে গ্রেফতার করেছে হাড়োয়া থানার পুলিশ। সরকারি চাল কীভাবে গোডাউনে এল, কোথা থেকে এই চাল সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং ভিনরাজ্যে পাচারের নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি রেশন ব্যবস্থার চাল নিয়ে বড়সড় কালোবাজারি চক্রের যোগ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।
















