অনিত থাপার ইস্তফার পর দীর্ঘ দিন ধরে তৈরি হওয়া প্রশাসনিক শূন্যতা কাটাতে অবশেষে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-এর মাথায় প্রশাসক বসাল রাজ্য সরকার। নবান্নের তরফে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে অভিজ্ঞ আইএএস অফিসার স্মৃতিরঞ্জন মহান্তিকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি জিটিএ-র প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি পদে কর্মরত।

সরকারি সূত্রের খবর, গত ১৭ জুন রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন জিটিএ-র চিফ এগজিকিউটিভ অনিত থাপা। গত ২৪ জুন সেই পদত্যাগ কার্যকর করে তা গ্রহণ করেন রাজ্যপাল। ২০২২ সালে ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার তরফে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর কার্যকালের মেয়াদ আরও প্রায় এক বছর বাকি ছিল। কিন্তু মেয়াদের আগেই তিনি সরে দাঁড়ান। অনিতের পাশাপাশি জিটিএ সভার চেয়ারম্যান অঞ্জুল চৌহান এবং ডেপুটি চেয়ারম্যান রাজেশ চৌহানও পদত্যাগ করেন। ফলে শীর্ষ নেতৃত্বের অবর্তমানে গত প্রায় দু'মাস ধরে পাহাড়ের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছিল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছিল।
উল্লেখ্য, জুন মাসে কার্শিয়াং সফরে গিয়ে জিটিএ-র বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি প্রকাশ্যেই জিটিএ-র আর্থিক লেনদেন নিয়ে তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। তার পরেই অনিত-সহ জিটিএ-র শীর্ষ নেতৃত্বের পদত্যাগ পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন ফেলে দেয়।
প্রশাসনিক মহলের মতে, পাহাড়ের প্রশাসনিক রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই পদক্ষেপ করেছে সরকার। নবান্নের আশা, স্মৃতিরঞ্জন মহান্তির পরিচালনায় জিটিএ-র থমকে থাকা কাজকর্মে গতি ফিরবে এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসবে।
















