কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে গিয়ে ফের ভাষার কারণে হেনস্থার অভিযোগ বিজেপি শাসিত ছত্তিশগড়ে (Chhattisgarh)। বাংলা ভাষায় কথা বলায় মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) ২৩ পরিযায়ী শ্রমিককে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে ছত্তিশগড়ে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর বিলাসপুর জেলার গণেশনগর ও চুচিয়াপাড়া এলাকা (Ganeshnagar and Chuchiyapara areas of Bilaspur district) থেকে তাঁদের আটক করে সিরগিটি থানার পুলিশ (Sirgiti Police Station Personnel)। বর্তমানে রায়পুরের একটি হোল্ডিং ক্যাম্পে (Raipur Holding Camp) তাঁদের রাখা হয়েছে। ঘটনায় ছত্তিশগড়ের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।

আটক শ্রমিকদের (Worker) প্রত্যেকেরই বাড়ি মুর্শিদাবাদের সুতি থানা এলাকায়। কাজের সূত্রে ছত্তিশগড়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। ওই সব শ্রমিকরা মূলত হকারের কাজ ছিল। তাঁদের বাংলা কথাবার্তাকেই সন্দেহের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয় বলে অভিযোগ। তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ সামিরুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে ছত্তিশগড় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, আটক ২৩ জনের মধ্যে ১৯ জনের কোনও নথিগত সমস্যা নেই। তাঁদের আগামী সপ্তাহে ছেড়ে দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, চার শ্রমিককে ঘিরে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়ার মতো কিছু সমস্যা রয়েছে। সেই বিষয়টি প্রশাসনের তরফে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই চারজনের পরিবারের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন সামিরুল। দ্রুত তাঁদেরও মুক্তির ব্যবস্থা হবে বলে আশাবাদী তিনি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর বক্তব্য, একজন ভারতীয় নাগরিককে শুধুমাত্র তাঁর ভাষা, উচ্চারণ, পোশাক, নাম বা আঞ্চলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কেন বারবার সন্দেহের চোখে দেখা হবে? ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাংলার শ্রমিকদের ভাষাগত পরিচয়ের কারণে হেনস্থার অভিযোগ নতুন নয়। ২৩ শ্রমিককে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করে দ্রুত তাঁদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন সামিরুল।