তৃণমূলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে সংসদে আলাদা আসন পেয়েছেন কয়েকজন সাংসদ। এদের হয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উত্তর কলকাতার বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Banerjee)। এদিন এই নিয়ে 'বেইমান' সুদীপকে তীব্র আক্রমণ করল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে বেলেঘাটার বিধায়ক তথা উত্তর কলকাতার জেলা সভাপতি কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)বলেন, 'সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার স্বার্থে নয়, উনি নিজের স্বার্থে চলছেন। উনি জীবনে কতবার দলবদল করেছেন তালিকাটা দিতে বলুন। কখনও শিবির বদল, কখনওবা দলবদল, কখনও মোমবাতি নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। উনি আর কী কী করেছেন সবাই জানে। এই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ই তো ক্রমাগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হোয়াটস অ্যাপ করে বলেছেন, আমি উত্তর কলকাতার সভাপতি হতে চাই৷ আমাকে পদ ফিরিয়ে দাও। তাকে সভাপতি করা হয়েছিল। তারপর ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তাঁর অনুরোধে নেত্রী তাঁকে আবার পদ ফিরিয়ে দেন। ওনার লজ্জা হওয়া উচিত। একজন সিনিয়র লোক হয়ে বারবার এভাবে সহানুভূতি কুড়িয়ে পদ নিয়েছেন।' 

এদিন কুণাল আরও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, আমি তো শুনেছি দল ছাড়ার কয়েকদিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হোয়াটস অ্যাপ করে বলেছিলেন, আমি একটা নতুন গাড়ি কিনতে চাই, পার্টি কি আমায় কিছু টাকা দেবে? এর কোনও উত্তর দিচ্ছেন না কেন? কিন্তু পার্টি তো কোনও টাকা দেয়নি। এরকম নির্লজ্জ একটা লোক গাড়ি কেনার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে টাকা চাইছেন, আর তার ক'দিন পরেই দলবদল করে বড় বড় কথা বলছেন। এরপরই সাংবাদিকদের উদ্দ্যেশ্যে কুণাল বলেন, আপনার ওনাকে এটা জিগ্যেস করুন না? উনি, কখনও কংগ্রেস, কখনও কংগ্রেস (এস), কখনও তৃণমূল, কখনও আবার কংগ্রেস, কখনও নির্দল, কখনও মমতাদির হাত-পা ধরে 'আর হবে না, ভুল হয়ে গেছে,' বলে ফিরে আসা, আর কতবার, এই বয়সে এসেও আর কতদিন এসব করবেন তিনি? এদিকে রবিবার স্পিকারের ডাকা সর্বদল বৈঠকে তৃণমূলের বেইমানদের ডাকায় বৈঠক শুরু হতেই ওয়াকআউট করে বেরিয়ে যান তৃণমূল-সহ ইন্ডিয়া জোটের একটা বড় অংশের সাংসদরা। তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র, সৌগত রায়দের সঙ্গে অংশ নেন কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, সিপিআই, ডিএমকে, শিবসেনা (উদ্ধব শিবির)-সহ বিভিন্ন দলের সাংসদরা।