দেহদানের প্রয়োজনীয়তা নেই- রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের (Sharadwat Mukharjee) এই কথায় বিতর্ক দেখা দেয়। এই প্রসঙ্গে জুড়ে দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত জ্যোতি বসুর (Jyoti Basu) নামও। যেখানে দেহদান নিয়ে সচেতনতা তৈরির কাজ করা হচ্ছে- সেখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে প্রবল বিতর্ক শুরু হয়। চাপে পড়ে এখন অন্যসুর শারদ্বতের। তাঁর দাবি, তিনি ওই কথা বলেননি। তিনি ব্রেন ডেথের (Brain Death) ক্ষেত্রে করতে নিষেধ করেছিলেন। মস্তিষ্কের মৃত্যু হলে অঙ্গদানই জরুরি বলে শনিবার জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার নিউ টাউনে (New Town) চক্ষুদান সংক্রান্ত সচেতনতা অনুষ্ঠানে যোগ দেন শারদ্বত। সেই মঞ্চে চিকিৎসক-মন্ত্রী শারদ্বত বলেন, “দেহদান করে লাভ নেই! পশ্চিমবঙ্গের উৎসাহী বাঙালি বলে, পুরো বডিটাই দান করে দিয়েছি ডাক্তারবাবু। আমি বলছি, ওটা করবেন না প্লিজ।“ তার পরিবর্তে অঙ্গদান অনেক বেশি জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর সঙ্গে জুড়ে দেন “জ্যোতি বসুর দেহ যে দান করা হয়েছিল তা চিকিৎসাবিজ্ঞানের কাজে লাগেনি। আরও কাজে লাগত যখন ওঁর ব্রেন ডেথ হয়েছিল, তখন যদি অঙ্গদান করা হত।“
এর জেরে প্রবল বিতর্ক দেখা যায়। একদিন পরেই তাঁর কথার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন শারদ্বত। শনিবার যাদবপুরের কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে (KPC Medical College) প্লাস্টিক সার্জারি নিয়ে একটি সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “আমি বলেছিলাম, যাঁদের ব্রেন ডেথ হয়েছে, কিন্তু মৃত বলে ঘোষণা হয়নি, তাঁদের দেহদান করার থাকলে আর করবেন না। সে ক্ষেত্রে অঙ্গদান করবেন।“ ব্যাখ্যা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “রোগীর ব্রেন ডেথের সময় অঙ্গদানের কথা বলা হলে অনেকে বলেন, তাঁর পুরো দেহটাই দান করার কথা রয়েছে। আমি বলতে চেয়েছি, ব্রেন ডেথে মরণোত্তর দেহদান করবেন না। ব্রেন ডেথের ক্ষেত্রে জরুরি হল রোগীদের অঙ্গদান। তাঁদের ক্ষেত্রে বলব, মরণোত্তর দেহদানে এগোবেন না।“
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, “যিনি এমনিই মারা গিয়েছেন, তাঁর জন্য অঙ্গদানের কোনও মূল্য নেই। তাঁদের ক্ষেত্রে চলে আসছে দেহদান। এই দুটো কথাই সচেতন করার জন্য বলা হয়েছিল। কোথাও হয়তো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। দেহদানের প্রয়োজন নেই, কোনও সময় বলা হয়নি।“
















