দলের তহবিল কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়ে মামলা দায়ের হল কলকাতা হাই কোর্টে। দলীয় সূত্রের খবর,  তৃণমূল শিবিরের তরফে সোমবারই আদালতের দ্বারস্থ হয়ে জরুরি ভিত্তিতে এই মামলার শুনানির আর্জি জানিয়েছেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জরুরি শুনানির আর্জির প্রেক্ষিতে বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত অপর পক্ষ তথা সব পক্ষকে আগে নোটিশ দিতে হবে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, তৃণমূলের দায়ের করা এই মামলায় রাজ্য সরকারের পাশাপাশি পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকেও যুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস বা এআইটিসি-র মূল অ্যাকাউন্টে বর্তমানে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা রয়েছে। এ ছাড়াও ত্রিপুরা এবং গোয়ার দলীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলিতে রয়েছে আরও প্রায় ১৮০ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ঠিক কার এক্তিয়ারে থাকবে, তা নিয়েই এখন দলেরই একাংশের সংঘাত চরমে উঠেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটে পরাজয়ের পর অরূপ বিশ্বাসকে কোষাধ্যক্ষের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু জটিলতা তৈরি হয় অন্য জায়গায়। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে দেওয়া একটি চিঠিতে অরূপ বিশ্বাস নিজেকে এখনও দলের কোষাধ্যক্ষ বলেই উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, তিনি যখন ওই পদে আসীন ছিলেন, তখন দলের বহু চেকে আগে থেকেই সই করে রেখেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই চেকগুলি কোথায়, কী ভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, তার কোনও সুনির্দিষ্ট হিসেব বা খতিয়ান তিনি পাননি।