উপনির্বাচনের মুখে জেলে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান (Milan Pradhan, Congress candidate from Nandigram)। একের পর এক পুরনো মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ১১টি মামলার মধ্যে পাঁচটিতে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি ছ’টি মামলায় গ্রেফতারি ঠেকাতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সেই মামলায় রাজ্য জানায়, ওই ছ’টির মধ্যে পাঁচটি মামলা ইতিমধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর একটি মামলায় মিলন অভিযুক্ত নন। রাজ্যের এই বক্তব্যের পরই তাঁর আবেদনে আপাতত কোনও হস্তক্ষেপ করেনি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের (Justice Saugata Bhattacharyya) বেঞ্চ।
মিলনের গ্রেফতারির পর সোমবার হলদিয়া ও কাঁথি আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির শুনানি হয়। হলদিয়া জেল থেকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেন তিনি। ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। অন্য দিকে, খেজুরি থানার একটি মামলায় ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে কাঁথি মহকুমা আদালতে সশরীরে হাজির করানোর নির্দেশ রয়েছে। এই পাঁচটি মামলার জেরেই বর্তমানে জেলে রয়েছেন মিলন।
বাকি ছ’টি মামলা নিয়ে সম্ভাব্য গ্রেফতারির আশঙ্কাতেই হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য, ভোটের আগে পুরনো মামলাগুলিকে সামনে রেখে ফের গ্রেফতার করা হতে পারে। যদিও রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়, ওই ছ’টি মামলার মধ্যে পাঁচটি প্রত্যাহার হয়ে গিয়েছে এবং একটি মামলায় মিলন অভিযুক্ত নন। ফলে ওই মামলাগুলির ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে পদক্ষেপের প্রশ্ন নেই। রাজ্যের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত কোনও নির্দেশ না দিয়ে ১২ অক্টোবর প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী শুনানির কথা জানিয়েছে আদালত (High Court)।
এদিকে মিলনের গ্রেফতারি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও চলছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের অভিযোগ, গ্রেফতারের আগে মিলনের উপর মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। চোখে কাপড় বেঁধে তাঁকে ঘোরানোর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। কংগ্রেসের দাবি, প্রার্থীর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলি নির্বাচনী হলফনামায় আগেই জানানো হয়েছিল। ভোটের ঠিক আগে পুরনো মামলায় এই তৎপরতা কেন, সেই প্রশ্নই তুলেছে দল।
















