ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের কার্যালয়ের (Trinamool's office on Camac Street) বিলবোর্ড খুলে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল। শুক্রবার বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর (Justice Raja Basu Chowdhury) বেঞ্চে মামলার শুনানি হলেও এই মুহূর্তে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি আদালত। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, বিলবোর্ডটি ইতিমধ্যেই খুলে ফেলা হয়েছে এবং এই পর্যায়ে বিষয়টিতে জরুরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। মামলায় প্রয়োজনীয় সব পক্ষগুলিকে যুক্ত করে তাঁদের নোটিশ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, ২৭ অগাস্ট বিকেলে ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে পুলিশ ও কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা গিয়ে বিলবোর্ডটি খুলে দেন। সেই ঘটনার পর তৃণমূলের তরফে আদালতের কাছে বিলবোর্ডটি ফের লাগানোর ব্যবস্থা করার আবেদন জানানো হয়। পাশাপাশি পুরসভার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়েও আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়। তবে বিচারপতি জানান, বিলবোর্ড পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া, ক্ষতিপূরণ বা মেরামতির মতো বিষয়গুলি অন্তর্বর্তী নির্দেশের আওতায় বিবেচনা করা যায় না।
শুনানিতে ওই বহুতলের মালিকপক্ষও তাদের বক্তব্য তুলে ধরে। তাদের দাবি, বহুতলের মালিক হিসেবে তাঁদের অনুমতি ছাড়াই বিলবোর্ডটি (Billboard) লাগানো হয়েছিল এবং তাঁদের অভিযোগের পরেই পুরসভার তরফে পদক্ষেপ করা হয়। ফলে মামলায় তাঁদের পক্ষভুক্ত করার আবেদন জানানো হয়। অন্যদিকে কলকাতা পুরসভার তরফেও বলা হয়, পুরসভাকে মামলার কপি না দিয়ে একতরফা কোনও নির্দেশ চাওয়া ঠিক নয়। মামলায় অন্তর্বর্তী নির্দেশের জন্য পৃথক আবেদন রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও আদালতের সামনে ওঠে।
এ দিন মামলাকারীর আবেদনে দেওয়া তথ্য নিয়েও আদালতে আলোচনা হয়। মামলাকারী ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে আবেদনে উল্লেখ থাকলেও সেই তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তৃণমূলের আইনজীবী জানান, প্রয়োজন হলে ওই তথ্য সংশোধন করা যেতে পারে। আদালতও জানায়, মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য ও সব পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পর বিষয়টি পরবর্তী পর্যায়ে বিবেচনা করা হবে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নোটিশ (Notice) দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মামলার পরবর্তী শুনানি সোমবার রাখা হয়েছে।
















