জুয়ার আসরে পুলিশের হানার খবর পেয়েই শুরু হয় তাণ্ডব। পুলিশকে লক্ষ্য করে পর পর বোমা ছোড়ার অভিযোগ ওঠে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার তদন্ত এগোতেই এবার বাগডোগরা (Bagdogra) থেকে গ্রেফতার হল এক সেনা জওয়ান (Army)। ধৃত ফায়জল শেখ (Faisal Shaikh) ৭২ আর্টিলারি রেজিমেন্টের আর্মি নায়েক পদমর্যাদার কর্মী। পুলিশ জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশে (Arunachal Pradesh) কর্মরত এই জওয়ানের বিরুদ্ধে সালার থানায় বোমাবাজি-সহ প্রায় আটটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ১৩ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) খাঁড়েরা গ্রামের একটি জুয়ার আসরে পৌঁছয় সালার থানার পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেতেই কয়েক জন অন্ধকারের মধ্যে পালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। এরপরই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অভিযোগ, পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে একের পর এক বোমা ছোড়া হয়। বিস্ফোরণে সালার থানার এএসআই সাদেক আলি-সহ কয়েক জন পুলিশকর্মী আহত হন। আহত সাদেক এখনও মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আরও পড়ুন: কমিশন যদি পক্ষপাতদুষ্ট হয়...! খাম' টানাটানিতে ফের হাই কোর্টে ভর্ৎসিত EC, রায়দান স্থগিত
হামলার পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছিল ফায়জল। তদন্তকারীরা তার গতিবিধির উপর নজর রাখছিলেন। শেষ পর্যন্ত ফায়জলের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর বাগডোগরায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে সালার থানার পুলিশ।
পুলিশের দাবি, সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকার পাশাপাশি স্থানীয় এলাকাতেও ফায়জলের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বোমাবাজির এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ভরতপুরের এসডিপিও বরুণ বৈদ্য জানিয়েছেন, ধৃতকে সোমবার কান্দি মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এখন পুলিশের নজর জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পুরো চক্রটির দিকে। হামলায় ব্যবহৃত বোমা কোথা থেকে এসেছিল, ঘটনায় আর কারা জড়িত এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে অন্য কোনও অপরাধচক্রের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং এলাকায় তল্লাশিও চালানো হচ্ছে।
















