অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলা নিয়ে সমস্যায় তৃণমূল। একের পর এক অ্য়াকাউন্ট ফ্রিজ করেছে পুলিশ ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের (Sougata Bhattacharya) নির্দেশের পরেও ইডি-র (ED) পদক্ষেপ নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। এরই মধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তাঁরাই আসল তৃণমূল, তাই অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অধিকার তাঁদেরই। তবে সোমবার ঋতব্রতর আবেদন নস্যাৎ করে দিল বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চ। ঋতব্রতর আবেদনে সাড়া না দিয়ে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চ শুনানি শেষে রায় দান স্থগিত রেখেছে।
একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (Account Freeze) করা হলেও হাই কোর্ট নির্দেশ দেয়, ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাবে। লেনদেনের বিষয়ে অবগত করতে হবে বিশেষ অফিসার প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে (Subrata Talukdar)। আদালত রায় দেওয়ার আগেই তৃণমূলের (TMC) সেই তিনটি অ্যাকাউন্টই বাজেয়াপ্ত করে ইডি। সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের আর্জি নিয়ে এবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল।
বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নিম্ন আদালতের রায়কে সামনে রেখেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের কথা বলেন ঋতব্রতরা। কিন্তু ইডি-র আইনজীবী এস ভি রাজু সোমবার আদালতে জানিয়েছেন গতকাল এই অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নিম্ন আদালত। সেটা গোপন রাখা হয়েছে আজ হাই কোর্টে। পাল্টা বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন করেন, নিম্ন আদালতের এই মামলায় এদের তৃণমূলকে কি পার্টি করা হয়েছিল? সেখানে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি জানান, গোপন করার কথা হচ্ছে কেন? যেখানে এটা অর্ডার হয়েছে। কাউকে পার্টি করা হয়নি মামলায়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাবে। এরপরেও ইডি ফ্রিজ করেছে অ্যাকাউন্টগুলি।
বিজেপি (BJP) সরকারকে কটাক্ষ করে মনু সিংভি বলেন, “ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার হলে কী হত? তিনটে এজেন্সি আসত? অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে দেরি করাতেই মামলা করা হয়েছে? আগে কমিশন ঋতদের অ্যাপ্রুভ করুক।” দলকে মান্যতা দেওয়ার ক্ষেত্রে দুপক্ষের নথি গ্রহণ করার কথা জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। যদিও এখনও কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি কারণ অপর পক্ষকে না জানিয়েই সময়সীমা বাড়িয়ে চলেছে ঋতব্রত শিবির।
এই পরিপ্রেক্ষিতে মনু সিংভি জানান, “আগে কমিশন তাঁদের আসল তৃণমূল বলুক। ২ জুলাই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ ছিল একটা কমিটি গঠন হবে। এর পরেও ৭ জুলাই ইডি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়। আজ যারা একমাত্র অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের দাবি করছে তারা ২৫ লক্ষ টাকা নিয়েও আগে কোনও দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ করেনি। রাজনৈতিক দলকে ফ্রিজ করলে সেটি গণতন্ত্রের উপর হামলা হিসেবে ধরা হয়। রাজনৈতিক দল চাটার্ড ফ্লাইট ব্যবহার করে এটাই স্বাভাবিক। নির্বাচনের সময় সব লেনদেন হয়েছে চেক পেমেন্টের মাধ্যমে।”
এরপরেই বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন তোলেন, নিম্ন আদালতের বিচারকের কি ক্ষমতা আছে কোনও একজন ব্যক্তিকে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষমতা দেওয়ার? ইডি পুলিশের কাছ থেকে রিপোর্ট নিয়েছিল কি না সেই নিয়েও প্রশ্ন করেন তিনি। ঋতব্রতর তরফে আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী নিম্ন আদালতের নির্দেশের প্রসঙ্গ তুলে জানান তাঁরাই আসল তৃণমূল। তাঁরাই রিপ্রেজেন্ট করবে তৃণমূলকে। আর কেউ নয়। যদিও এর পরেই বিচারপতি স্পষ্ট জানান, “প্রপার অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে আসুন। আপনাদের কথা শুনতে চাই না।”
















