নিয়ম মেনে আবেদন করেও মিলছে না অন্নপূর্ণা'র টাকা। এই নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই রাজ্য জুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে মহিলাদের। ভোটের আগে বলা হয়েছিল, যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দেড় হাজার টাকা পাচ্ছেন, তাঁরাই বিজেপি জিতলে ডাবল, অর্থাৎ তিন হাজার টাকা করে পাবেন। এই বলে ভোট নেওয়া হল, আর এখন মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, যোগ্যরা কেউ বাদ যাবেন না। এখন তাহলে কোথা থেকে এল এই ‘যোগ্য’, ‘অযোগ্য’, ভোটের আগে কি এসব বলা হয়েছিল? এতো তাহলে রাজ্যের মহিলাদের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতারণা। এমনই অভিযোগ তুলে রাজ্যের বিজেপি সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করল তৃণমূল কংগ্রেস। 

রবিবার বেলায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, কারা যোগ্য, আর কারা নন, তার বিচার করবে কে? সমস্ত মহিলারা কেন এই সুবিধা পাবেন না? নির্বাচনের আগে কেন সেটা স্পষ্ট করে বলা হয়নি? মা-বোনেদের সঙ্গে এটি এক ধরনের রাজনৈতিক প্রতারণা। তাঁর আরও অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধাপে ধাপে বিভিন্ন সামাজিক জনমুখী প্রকল্প চালু করেছিলেন। অথচ এই বিজেপি সরকার সেই তৈরি প্রকল্পগুলোই নতুন নামে চালিয়ে কৃতিত্ব নিতে চাইছে এখন। তিনি বলেন, বিজেপির অনেকে বলছেন, সবে তিন মাস হল, সরকার এসেছে, একটু তো সময় দিতে হবে। এই যুক্তি উড়িয়ে কুণাল বলেন, কেন সময় লাগবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো পুরো কাজটা করে দিয়ে গিয়েছেন। কোথা থেকে কোন অ্যাকাউন্টে টাকা যাবে, পুরো সিস্টেম তো তৈরিই আছে। তাঁরা শুধু দেড় হাজারের বদলে তিন হাজার করে দেবেন। তাহলে কেন সময় লাগবে। আর এর জন্য যোগ্য হতে হবে, সেটাতো আর ভোটের আগে দিল্লি থেকে আসা বা কলকাতার বিজেপি, কোনও নেতাই কিছু বলেননি। তাহলে এখন সামনে দুটো বিকল্প। প্রথমত, সবাইকে তিন হাজার করে দিতে হবে, নয়তো অন্নপূর্ণার নাম করে পাওয়া ভোট ফেরত দিয়ে ফের নতুন করে ভোট করাতে হবে।