তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সমাবেশ বানচাল করতেই ক্যামাক স্ট্রিটের দলীয় কার্যালয়ে পরিকল্পিত ভাবে পুলিশি হামলা চালানো হয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে পুরসভা ও পুলিশের যৌথ অভিযানের পরই রাজ্য প্রশাসন ও বিরোধীদের একযোগে নিশানা করেন তিনি। তৃণমূলের স্পষ্ট দাবি, ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবসের মেগা সমাবেশের ঠিক আগের রাতে ভয় দেখাতেই এই নোটিশ ও অভিযানের নাটক সাজানো হয়েছে। একের পর এক আইনি মামলায় ধাক্কা খাওয়ার পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই পদক্ষেপ বলে অভিযোগ ঘাসফুল শিবিরের। 

কুণাল ঘোষ সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেন, "শুক্রবার ২৮ অগাস্ট আমাদের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মহাসমাবেশ। সব দিক থেকে তা ভণ্ডুল করার চেষ্টা চলছে। ২১শে জুলাই ডিস্টার্ব করার চেষ্টা করেও ওরা পারেনি। ২৮শে অগাস্টও যে পারবে না, সেটা বুঝতে পেরেই আজ ক্যামাক স্ট্রিটে এসে এই অশান্তি ও অস্থিরতা তৈরি করছে।" বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষ করে তিনি আরও যোগ করেন, "রাতের বেলা হামলা করার ছক কষা হচ্ছে, কর্মীদের আটকে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু এইসব করে লাভ হবে না। দিনের শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই জনসমুদ্র থাকবে, আর ওদের ভাগে থাকবে শুধুই ফাঁকা প্লাস্টিকের চেয়ার! ২১শে জুলাই ওদের যে হাজার-বারোশো লোক হয়েছিল, কাল সেইটুকুও হবে না।"

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার বিকেলে। ক্যামাক স্ট্রিটের তৃণমূল ভবনে লাগানো হোর্ডিং ‘বেআইনি’ দাবি করে গ্যাস কাটার ও নোটিশ নিয়ে পুরসভার কর্মীদের সঙ্গে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। খবর পেয়েই কার্যালয় থেকে নিচে নেমে আসেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবির। তাঁরা পুরসভার নোটিসের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। উত্তেজনা চরম আকার নেয় দলের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিচে নেমে আসার পর। অভিযোগ, পুলিশের এক আধিকারিক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই ঔদ্ধত্য দেখিয়ে কার্যালয়ে জোরপূর্বক ঢোকার হুঁশিয়ারি দেন।

এর পরই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, কোনও বৈধ আইনি অনুমতি ছাড়াই অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী গেট আটকে জোর করে কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে পড়ে। উপস্থিত নেতা-কর্মীদের নির্বিচারে মারধর করা হয় এবং মহিলা কর্মীদের শ্লীলতাহানি ও কটূক্তি করার অভিযোগ ওঠে। ছাদের দরজার চাবি না থাকায় তালা ভেঙে সূর্যাস্তের পর বেআইনিভাবে গ্যাস কাটার দিয়ে হোর্ডিং কাটার কাজ চালায় পুলিশ। প্রতিবাদ করায় বেশ কয়েকজন দলীয় কর্মীকে আটক ও গ্রেফতারও করা হয়।