রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Shuvendu Adhikari)। এখন থেকে রাজ্যের সাধারণ মাজমির খতিয়ান (Record-of-Rights) এবং দাগের তথ্য (Plot Information) সংক্রান্ত তথ্য মিলবে বিনা মূল্যে। আগে এই সব ডিজিটাল নথি ডাউনলোড করার জন্য যে আবেদন ফি (Enquiry charges) দিতে হতো, এবার তা সম্পূর্ণ মকুব করে দিল রাজ্য সরকার।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, স্বচ্ছ, ঝামেলামুক্ত এবং সহজেই যাতে নাগরিক পরিষেবা পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ করা হলো। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৯৫৫ সালের 'পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার আইন'-এর ৫৭ নম্বর ধারা মেনে 'বেঙ্গল রেকর্ডস ম্যানুয়াল, ১৯৪৩'-এর নির্দিষ্ট বিধি সংশোধন করা হয়েছে। রাজ্যপালের অনুমতি এবং অর্থ দফতরের সম্মতির পরেই এই নতুন নিয়ম অবিলম্বে পুরো রাজ্যজুড়ে লাগু করা হচ্ছে।

নতুন নিয়মে আমজনতার কী সুবিধা হবে? এখন থেকে যে কেউ অনলাইনে জমির খতিয়ান বা দাগের তথ্যের ডিজিটালি স্বাক্ষরিত সফট কপি (Digitally Signed Soft Copy) সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পারবেন। নথির পাতার সংখ্যা যত বেশিই হোক না কেন, অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে কোনও অ্যাপ্লিকেশন ফি বা অথেন্টিকেশন ফি দিতে হবে না। নবান্নের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিনামূল্যে এই সুবিধাটি শুধুমাত্র অনলাইনের মাধ্যমে ডাউনলোড করা ডিজিটাল কপির ক্ষেত্রেই মিলবে। তবে কেউ যদি জমি রেজিস্ট্রি বা অন্য কোনও আইনি কাজের জন্য সরকারি সিলমোহর দেওয়া সার্টিফাইড হার্ড কপি (Certified Hard Copies) নিতে চান, তবে তার জন্য আগের মতো নির্ধারিত সরকারি ফি দিতে হবে।

পুরো ব্যবস্থার সুবিধার্থে রাজ্যের সমস্ত পুরসভা, নোটিফায়েড অঞ্চল ও টাউনশিপকে 'জোন এ' এবং গ্রামীণ এলাকাকে 'জোন বি' হিসেবে ভাগ করে ডিজিটালাইজেশনের কাজ আরও নিখুঁত করার প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "আপনার জমি, আপনার অধিকার, আপনার তথ্য এখন থেকে মাত্র এক ক্লিকের আওতায়।" মূলত ভূমি দফতরের কাজের গতি ও স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং সরকারি পরিষেবাকে আমজনতার হাতের মুঠোয় এনে দেওয়াই এই ডিজিটাল সংস্কারের মূল লক্ষ্য। বাংলার বহু কৃষক এবং জমির মালিকদের জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত স্বস্তির।