লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ফিরিয়ে দিন! সোমবার ফেসবুক লাইভে এসে স্পষ্ট দাবি করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরামর্শ দেন, যাঁরা অন্নপূর্ণা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তাঁদের বলব, নাম-ঠিকানা বুথের নাম, কে কী কাজ করেন তার লিস্ট পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে নিজেদের মধ্যে সংগ্রহ করুন। আমরা আগামী দিনে নিশ্চয়ই কোনও সিস্টেম করব তার মধ্যে দিয়ে আমরা আপনাদের থেকে এগুলো জোগাড় করব। আমরা আপনাদের সঙ্গে পুরোপুরিভাবে আছি ছিলাম থাকব। নির্বাচনের আগে ঘরে ঘরে ৩০০০ টাকা দেওয়ার যে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র টোপ বিজেপি দিয়েছিল, আজ তা সম্পূর্ণ ভাঁওতাবাজিতে পরিণত হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট দাবি, ভোটের আগে কোনও শর্ত ছিল না, আর এখন মা-বোনেরা টাকা চাইতে গেলে বলা হচ্ছে তোমরা নাকি যোগ্য নও। এটা বাংলার মা-বোনেদের সাথে চরম প্রতারণা। তিনি বলেন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলার আড়াই কোটি মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন। যোগ্যতা যাচাইয়ের নামে বর্তমান বিজেপি সরকার প্রায় দেড় কোটি মায়ের নাম কেটে দিয়েছে। অন্নপূর্ণার টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বেছে বেছে ধর্ম এবং জাতপাত দেখা হচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন জানান, আমরা ২ কোটি ৪২ লক্ষ মা-বোনদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিতাম। ভোটের আগেও মার্চ মাসে আমরা এই টাকা দিয়েছি। ভোটের পর থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের পঁচাত্তর শতাংশ টাকা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে এই সংখ্যায় কতটা জল মেশানো আছে তার সম্পূর্ণ সার্ভে না করলে বিস্তারিত জানা যাবে না। নির্বাচনের আগে যখন বিজেপির কর্মীরা এলাকায় গিয়ে মা-বোনেদের কাছে ফর্ম ফিলাপ করেছিলেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিজেপি জিতলে তাঁদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দেবেন তখন কোনও শর্ত আরোপ করা হয়নি। এখন মানুষকে প্রতারিত করা হচ্ছে।
নেত্রী স্পষ্ট জানান, আমাদের সরকার থাকলে আজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চলত। আমরা মা-বোনেদের আত্মনির্ভরশীল এবং নিজেদের পায়ে দাঁড় করানোর জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার করেছিলাম। এখন বলছে যোগ্যতা নেই তাই অন্নপূর্ণা যোজনা পাবে না। সেদিন কেন যোগ্যতার কথা বলেনি? বিজেপি কি ঠিক করে দেবে কার যোগ্যতা আছে আর কার যোগ্যতা নেই? নেত্রীর আশঙ্কা, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার খুব বড় জোর হলে পুজো পর্যন্ত চালাবে বিজেপি তাও সকলকে দেবে না।















