'আপনাকে রাস্তায় বেরতে হবে না। আর রাস্তায় আপনি যাতে না বেরতে পারেন, তার ব্যবস্থাও আমি করব', তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত গৃহবন্দি করার হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্রের প্রশ্ন তুলে সরাসরি রাষ্ট্রপতি ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপের আবেদন জানালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবার বিকেলে নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “ফেসবুকেই আপনি থাকুন বিকেল বেলা। আপনাকে রাস্তায় বেরতে হবে না। আর রাস্তায় আপনি যাতে না বেরতে পারেন, তার ব্যবস্থাও আমি করব।” একই সঙ্গে পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি দাবি করেন, অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে শুরু করে আবাস প্রকল্প— সব ক্ষেত্রেই স্বজনপোষণ ও ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন করা হয়েছিল। নন্দীগ্রামের একটি ব্লকে আবাসের ঘরের বণ্টনের উদাহরণ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, আগের জমানায় সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাছাই করা হত। বর্তমান সরকার কোনও বৈষম্য না করে জুন মাস থেকেই রাজ্যের সমস্ত যোগ্য মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছে।

এর আগেই অবশ্য ফেসবুক লাইভে এসে রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের নীতি ও অবস্থান নিয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মমতা। অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে শুরু করে জনগণনা— একাধিক বিষয়ে সুর চড়িয়ে তিনি বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু বিকেলে নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সংঘাত চরম আকার নেয়।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বিবৃতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, এটি ভারতীয় রাজনীতিতে এক চরম অধঃপতন। একটি সাংবিধানিক পদে বসে, খোদ সরকারি দফতরে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে প্রধান বিরোধী দলের নেত্রীর চলাফেরার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। মমতা প্রশ্ন তোলেন, “এর প্রকৃত অর্থ কী? গৃহবন্দি করা? ভয় দেখানো? নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা? সাংবিধানিক গণতন্ত্রে কে অবাধে চলাফেরা করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ওঁর আছে কি?”

বিষয়টিকে ব্যক্তিগত আক্রমণের চেয়েও বড় করে দেখে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ ও ভিন্নমতকে শাস্তি দেওয়াই বর্তমান ব্যবস্থার রূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গোটা দেশ এক বিপজ্জনক স্বৈরতান্ত্রিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করে তিনি মনে করিয়ে দেন, ক্ষমতা দিয়ে কিছু সময় ভয় দেখানো গেলেও শেষ পর্যন্ত জনতার আদালতে জবাবদিহি করতেই হবে।