বিজেপিকে সন্ন্যাসে না পাঠানো পর্যন্ত লড়াই চলবে। আরও বৃহত্তর আন্দোলন হবে। দেখা হবে রাস্তায়। সোমবার ফেসবুক লাইভে এসে বিজেপিকে একহাত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য্যায়। তাঁর সাফ কথা, বিজেপি যদি ভেবে থাকে মিটিং-এর অনুমতি দেবে না, আমি সন্ন্যাসী হয়ে যাব। তবে ভুল ভাবছেন। আপনাদের সন্ন্যাসে না পাঠানো পর্যন্ত আমার লড়াই থামবে না। পুলিশ দিয়ে যতই ভয় দেখান, যতই আটকানোর চেষ্টা করুন, আমাকে আটকাতে পারবেন না। মানুষই শেষ কথা বলে, শেষ কথা স্বৈরাচার বলে না। অসহায় মানুষের পাশে আবার দাঁড়াব, আমার যেখানে ইচ্ছা সেখানে যাব। দেখা হবে রাস্তায়, রাস্তাই আমাদের রাস্তা দেখাবে।
সোমবার ফেসবুক লাইভ থেকে বিজেপিকে বর্জনের ডাক দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বিজেপিকে বর্জন করুন, এই বিজেপিকে চাই না। যারা অন্যায় করছে, অত্যাচার করছে, খুব শীঘ্রই তারা জবাব পাবে। ১২ থেকে ১৪ হাজার লোকের নামে কেস দিয়েছে পুলিশ। পুলিশ মধ্যরাতে ডেকে পাঠিয়ে বলছে অ্যারেস্ট করা হবে। বলছে, তুমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল করবে না। বাইরে চলে যাও। নয়তো গাঁজা কেস দিচ্ছে। আইনকে বেলাইন করে দিয়েছে। আমি জানি না তাঁবেদারবাবুরা কতটা পুরস্কার পাবেন, জনগণ কিন্তু তাঁদের তিরস্কার দিচ্ছে। আমরা নামগুলো লিখে রাখছি।
নেত্রী বলেন, আমরা মিটিং করতে গেলে কোর্ট থেকে পারমিশন নিতে হচ্ছে। কেন ভারতে কি গণতন্ত্র নেই? আমরা কেন আন্দোলন করতে পারব না? কেন আমরা মিটিং করতে পারব না? সবাইকে ভয় দেখানো হচ্ছে। যাদবপুরে গিয়ে তান্ডব চলছে। যাদবপুরের এমব্লেম পর্যন্ত আপনারা নষ্ট করেছেন। ১৫ আগস্ট ছাত্রযুবরা পতাকা তুলতে গিয়েছিল, কী অপরাধ করেছিল? তাদেরকে থানায় আটক করে রাখা হল। এই বিজেপি কি তিরঙ্গা নিয়ে কখনও আন্দোলন করেছে। কোথায় ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়। ব্রিটিশদের দালালি করেছিল। স্বাধীনতা আন্দোলনের দিন যারা হামলা চালাল তাদের কাউকে গ্রেফতার করল না। উল্টে ছাত্র-যুবদের আমাদের একটা লিগ্যাল পাঠাতে হল। মনে রাখবেন, আপনাদের গ্রহণ লেগেছে। তাই আমাকে ভয় দেখাচ্ছেন। মানুষ এই চার মাসে আপনাদের বুঝে নিয়েছে।
বিজেপিকে নিশানায় তাঁর আরও সংযোজন, আপনারা যাদের টাকা আছে তাদের দালালি করছেন। লুঠ করে বাংলায় ক্ষমতায় এসেছেন। এখন হানিমুন পিরিয়ড চলছে। এখনই আপনারা সেটাকে মানিমুন পিরিয়ডে পরিণত করেছেন। আপনাদের মতো স্বৈরাচারী, ব্যভিচারী, দুরাচারী রাজনৈতিক দল। এমন সরকার আমি জীবনে দেখিনি। লক্ষ লক্ষ হকারদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়েছে। হকারদের জীবন-জীবিকা ফিরিয়ে দিন। বুলডোজার দিয়ে রাজনীতি করছেন। সবাইকে একতরফা নোটিশ দিয়ে বলছেন গেট আউট। আপনাদের সরকার বাংলাকে বঞ্চনা করে গিয়েছে। এখনও সেই বঞ্চনা, টাকাগুলো কোথায় যাচ্ছে? নেত্রীর হুঁশিয়ারি, আপনারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কণ্ঠরোধ করছেন। সমস্ত রাজনৈতিক দলকে আন্দোলনের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে, না হলে দিল্লির আন্দোলন দেখেছেন তো। বাংলাতেও সেই আন্দোলন হবে। ভাবছেন সবটা স্বৈরাচারীভাবে চলবে, চলবে না। আমাদের সম্প্রীতির বন্ধন ভাঙতে পারবেন না। আমাদের ঘর ভাঙলে আপনাদের ঘরটাও ভাঙবে আগামী দিনে।
















