বাংলায় সব সময় ছাত্রেরাই অন্যায় আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে। আগামী ২৮ অগাস্টের সমাবেশ কেবল একটি প্রতিষ্ঠা দিবস পালন নয়, এটি হল ছাত্র সমাজের অধিকার রক্ষার নতুন শপথ। বাংলার সমস্ত কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের বলব, তোমরা দলে দলে এসে এই সমাবেশ সফল করো। সোমবার ফেসবুক লাইভে এসে যুব সমাজের উদ্দেশ্যে এমনটাই বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

তৃণমূল নেত্রী বলেন ২৮ অগাস্ট ছাত্র যুব আপনাদের জন্য অভিনন্দন রইল আপনারা সবাই আসবেন। বিপদে পড়লে আমি দল দেখব না। আমি আপনাদের পাশে ছিলাম থাকব। তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, আমরা মিটিং করতে গেলে কোর্টের অনুমতি নিতে হচ্ছে। নেত্রীর প্রশ্ন, কেন ভারতে কি গণতন্ত্র নেই? আমরা কেন আন্দোলন করতে পারব না? 

প্রশাসনের তাঁবেদারি করার প্রসঙ্গ তুলে নেত্রী বলেন, ২৭ জুলাই আমরা ২৮ অগাস্টের জন্য পুলিশের কাছে পারমিশন নিতে গিয়েছিলাম। আজ পর্যন্ত পারমিশন পাইনি। কোনও জায়গায় পারমিশন দেওয়া হচ্ছে না। ডেকোরেটরকে ভয় দেখানো হচ্ছে মাইক ম্যানকে ভয় দেখানো হচ্ছে। হোটেল ভাড়া নিতে গেলে সেখানে মালিককেও ভয় দেখানো হচ্ছে।। আপনারা যাদবপুরে গিয়ে তাণ্ডব করে এলেন যাদবপুরের প্রতীক পর্যন্ত আপনারা নষ্ট করলেন। ১৫ অগাস্ট ছাত্র-যুবদের উপর অত্যাচার করলেন। উপাসনা, প্রিয়াঙ্কা গিয়েছিল ময়নায় আন্দোলন করে পতাকা তুলতে। ওদের কী অপরাধ ছিল? শুধু বিজেপি তিরঙ্গা যাত্রা করবে বাংলায় একা, তিরঙ্গা নিয়ে কখনও আন্দোলন করেছে? কোথায় ছিল তারা? যারা ব্রিটিশদের দালালি করেছিল যারা স্বাধীনতা সংগ্রামের আন্দোলনের দিন হামলা করল তাদের কাউকে অ্যারেস্ট করা হল না। স্বাধীনতা দিবসের দিনও আমাদের একটা লিগাল টিম পাঠাতে হল থানায়। ফেসবুক লাইভের শেষে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দেন, যত বাধাই আসুক না কেন, গণতান্ত্রিক উপায়ে এবং শান্তিপূর্ণভাবে এই সমাবেশকে সফল করতে হবে। রাজ্যের প্রতিটি জেলা থেকে ছাত্র সমাজ যেন কলকাতার রাজপথে এসে নিজেদের অধিকারের আওয়াজ তোলে, সেই নির্দেশই দিয়েছেন তিনি। মেয়ো রোডে সভার অনুমতি পাওয়া নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই ফেসবুক লাইভে এসে নেত্রীর এই বার্তা কর্মীদের নতুন করে উজ্জীবিত করছে।