তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের (Trinamool Chhatra Parishad Foundation Day) মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-যুবদের আন্দোলনকে আরও জোরদার করার বার্তা দিলেন সংগঠনের নেতারা। বাংলার ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহ্য থেকে শুরু করে সংবিধান রক্ষা, সম্প্রীতির প্রশ্ন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নেতৃত্বে রাজনৈতিক লড়াই। মঞ্চে একাধিক ইস্যুতে সরব হন পশ্চিমবঙ্গ আইটি সেলের ইনচার্জ উপাসনা চৌধুরী (Upasana Chowdhury, In-charge of the West Bengal IT Cell) এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি প্রিয়াঙ্কা অধিকারী (Priyanka Adhikari, President of Trinamool Chhatra Parishad)।
ছাত্র-ছাত্রীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে উপাসনা চৌধুরীর দাবি, তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদ ইতিমধ্যেই দিল্লির ক্ষমতার কেন্দ্রকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বাংলার আন্দোলনের ইতিহাস এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর (Netaji Subhas Chandra Bose) আদর্শের প্রসঙ্গ। নেতাজির মূর্তি ভেঙে তাঁকে অসম্মান করার অভিযোগ তুলে তীব্র ভাষায় শাসকপক্ষকে আক্রমণ করেন তিনি। উপাসনার বক্তব্য, নেতাজির আদর্শ ও সুভাষবাদকে হৃদয়ে ধারণ করেই বাংলার ছাত্র-যুব সমাজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে সংবিধান হাতে নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শাসকদের নিশানা করেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন উপাসনা। তাঁর কথায়, বাংলার ছাত্র-যুবদের আন্দোলনের শক্তিকে কোনও ভাবেই স্তব্ধ করা যাবে না। এমনকি উপাসনার ফেসবুক ভারতবর্ষে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সেই নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুধুমাত্র ব্যক্তি নয়, একটি রাজনৈতিক ‘ব্র্যান্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে উপাসনা বলেন, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মীরাই সেই লড়াইয়ের অন্যতম শক্তি। মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ছাত্র-যুব সমাজ আগামী দিনেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব থাকবে বলেও দাবি করেন তিনি। বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের প্রশ্নে আপস না করার বার্তাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।
অন্যদিকে, বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী রাখিবন্ধন উৎসবের (Raksha Bandhan Festival) ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বাংলার সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার বার্তা দেন প্রিয়াঙ্কা অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, ধর্ম ও জাতপাতের ভিত্তিতে সমাজকে বিভক্ত করার রাজনীতি ফের জোরদার করার চেষ্টা চলছে। বাংলার মানুষ সেই রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ বলেই দাবি করে তিনি বলেন, এই রাজ্যের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ই হল মিলেমিশে থাকার ঐতিহ্য। সেই ঐক্য নষ্ট করার কোনও চেষ্টা সফল হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে গরিব, হকার এবং ছাত্র-যুবদের স্বার্থে আঘাত করার অভিযোগ তুলে প্রিয়াঙ্কার বার্তা, প্রয়োজন হলে বাংলার ছাত্রসমাজও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে। তাঁর দাবি, ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে, দিল্লির ছাত্র আন্দোলনেই তার প্রমাণ মিলেছে। প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে তাই দলীয় কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। আগামী দিনের লড়াইয়ে ছাত্র-যুবদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ডাক দিয়েই কেন্দ্রের শাসক শক্তিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রতিজ্ঞার কথাও শোনা যায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের মঞ্চে।
















