উলুবেড়িয়া পুরসভা পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়ালেন পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। পুরসভা পরিদর্শন থেকে প্রশাসনিক বৈঠক, এমনকি মধ্যাহ্নভোজ—সর্বত্রই এক ঠিকাদারকে মন্ত্রীর পাশে দেখা যাওয়ায় আপত্তি তোলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীদের একাংশ। অভিযোগ, বিষয়টি জানতে চাইলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে নিরাপত্তারক্ষীরা বাইরে বের করে দেন। সাংবাদিকরা ঘটনার ছবি তুলতে গেলে তাঁদেরও বাধা ও শাসানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন: মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধে তোলাবাজি-কাটমানির অভিযোগ! ফের অস্বস্তি বিজেপির অন্দরে

সোমবার উলুবেড়িয়া পুরসভা পরিদর্শনে যান পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। বিজেপির অভিযোগ, পুরসভায় প্রবেশের সময় থেকেই তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় ঠিকাদার নাসিরুদ্দিন মোল্লা। পুরপ্রধান, কাউন্সিলর ও পুর আধিকারিকদের নিয়ে মন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকেও ওই ঠিকাদারের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্থানীয় বিজেপি নেতা সোমনাথ সাধুখাঁ, প্রাক্তন পুর প্রতিনিধি নব মাল এবং ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অঞ্জনা অধিকারীদের অভিযোগ, ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং বিজেপি কর্মীদের মারধরের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, এমন একজন ঠিকাদার কীভাবে মন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত থাকলেন?

আরও পড়ুন: সভার অনুমতি শেষ মুহূর্তে বাতিলের নাটক! ক্ষুব্ধ কোর্ট বলল, "কী উদ্দেশ্যে এসব করা হচ্ছে?"

বিজেপি নেতা-কর্মীদের আরও দাবি, মন্ত্রী যে রেস্তোরাঁয় মধ্যাহ্নভোজ করতে যান, সেখানেও ওই ঠিকাদার তাঁর সঙ্গে ছিলেন। অভিযোগ, বিষয়টি মন্ত্রীকে জানাতে গেলে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। ঘটনার ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গেও নিরাপত্তারক্ষীরা দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। কয়েকজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। মন্ত্রী নিজেও সাংবাদিকদের শাসিয়েছেন বলে দাবি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে উমেশ রাই বলেন, "আমি সবাইকে চিনি না। কোন ঠিকাদার ছিলেন, জানি না।"

অন্যদিকে, ঠিকাদার নাসিরুদ্দিন মোল্লার দাবি, তিনি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন। মন্ত্রী তাঁর পূর্বপরিচিত। পুরসভায় তাঁর বেশ কিছু টাকা বকেয়া রয়েছে বলেই মন্ত্রী আসার খবর পেয়ে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। পরে মন্ত্রী খাওয়ার কথা বলায় তিনিই তাঁকে রেস্তোরাঁয় নিয়ে যান বলে দাবি তাঁর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্বস্তিতে বিজেপির হাওড়া জেলা নেতৃত্বও। পাশাপাশি সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণেরও নিন্দা করেছেন তাঁরা।