রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত এবং 'টালবাহানা' নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অযথা দেরি করে শেষ মুহূর্তে তা খারিজ করায় আদালতের সময় নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। এর জেরে সপ্তাহের শেষেও জেরে জরুরি ভিত্তিতে আদালত বসাতে হচ্ছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

একটি মামলার শুনানিতে রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারপতি বলেন, "শুক্রবার নিয়মিতভাবে অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে, আর তার জেরেই শনিবার আদালতকে বসতে বাধ্য হতে হচ্ছে। দয়া করে এটা করবেন না। এর পেছনে কি কোনও পরোক্ষ উদ্দেশ্য রয়েছে? আমি আপনাদের স্পষ্টই বলছি।"

একটি নির্দিষ্ট আবেদনের প্রসঙ্গ তুলে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। জানা যায়, গত ৩ অগাস্ট এক কর্মসূচির অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় নথি প্রশাসনের হাতে থাকা সত্ত্বেও প্রায় চার দিন পর, ৭ অগাস্ট রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ সেই আবেদন খারিজ করা হয়। বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ৩ অগাস্ট করা আবেদনের উত্তর ৭ অগাস্ট রাতেই কেন দিতে হবে? প্রশাসন আগে সিদ্ধান্ত জানাতে পারত না কেন? আদালতের পর্যবেক্ষণ, সময়মতো সিদ্ধান্ত নিলে আবেদনকারীদের শেষ মুহূর্তে  আদালতের দ্বারস্থ হতে হত না এবং আদালতকেও জরুরি শুনানিতে বসতে হত না।

অন্যদিকে, শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁর দাবি, আবেদনকারীরা তাঁদের পিটিশনে বেশ কিছু তথ্য গোপন করেছিলেন। আবেদনে দেওয়া কয়েকটি তথ্য ঠিক ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়াও কর্মদিবসে প্রায় ২ হাজার মানুষকে নিয়ে সভা বা মিছিলের মতো কর্মসূচি হলে সাধারণ মানুষের ব্যাপক ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে বলেও আদালতে যুক্তি দেয় রাজ্য। তবে রাজ্যের এই যুক্তিতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয়নি হাই কোর্ট।