তোলাবাজি, কাটমানি ও দুর্নীতির অভিযোগকে হাতিয়ার করেই বাংলায় রাজনৈতিক জমি শক্ত করেছিল বিজেপি। দুর্নীতিমুক্ত নতুন বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসার পর এবার সেই একই অভিযোগে দলের একাধিক নেতা-কর্মীর নাম জড়ানোয় অস্বস্তিতে রাজ্য বিজেপি। কোচবিহারের নাটাবাড়িতে মণ্ডল সভাপতির হাতে টাকার বান্ডিল গোনার ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ায় নতুন করে সামনে এসেছে সেই বিতর্ক।

আরও পড়ুন: সভার অনুমতি শেষ মুহূর্তে বাতিলের নাটক! ক্ষুব্ধ কোর্ট বলল, "কী উদ্দেশ্যে এসব করা হচ্ছে?"

অভিযুক্ত বিজেপি নেতা মনোরঞ্জন বর্মন নাটাবাড়ির মণ্ডল সভাপতি। ভাইরাল ভিডিয়োকে (সত্যতা যাচাই করেনি বিশ্ববাংলা সংবাদ) কেন্দ্র করে দলের অন্দরেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁকে বহিষ্কারের দাবি করছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। দলীয় সূত্রে দাবি, মনোরঞ্জনের বিরুদ্ধে এর আগেও তোলা আদায়, হুমকি, পুকুর দখল এবং চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। যদিও অভিযোগগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এই নিয়ে সরব হয়েছে মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, "আমরা তো আগে থেকেই বলছি, আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত একটা দল। কোচবিহারে ধরা পড়েছে। পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে খোঁজ নিন, সব জায়গায় টাকা তোলা হচ্ছে।" তবে শুধু মণ্ডল স্তরেই নয়, বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও তোলাবাজির অভিযোগ ওঠার প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। এমনকি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নাম করেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও দলীয় নেতৃত্ব সেই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বললেও বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়—এখন সেটাই দেখার।