তৃণমূলের আমলে ১৩৫ জন এনবিএসটিসির অস্থায়ী কর্মীকে স্থায়ী করা হবে আদালতের মাধ্যমে সেই রায় নিয়ে এলেও পালাবদলের পর বিজেপি সরকার আসতেই শুরু টালবাহানা। এবার তাই সমাধান চেয়ে ফের আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন ওই কর্মীরা। আদালতের নির্দেশ অবমাননার জন্য মামলা দায়ের করতে চলেছেন উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের অস্থায়ী কর্মীরা। চলতি বছর ২২ জুন ডায়েড-ইন-হার্নেস কেসে কলকাতা হাইকোর্ট নিগমে তাঁদের স্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগের পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় দু’মাস। এখনও পর্যন্ত নিয়োগের কোনও উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। অভিযোগ, কর্মীসংকট থাকা সত্ত্বেও এনবিএসটিসি আদালতের রায়ের মান্যতা দিচ্ছে না। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী সহ এনবিএসটিসি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে একাধিকবার বলা সত্ত্বেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়ে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করতে চলেছেন ডায়েড-ইন-হার্নেস কেসের ওই কর্মীরা। দীর্ঘ ১৮ বছরের লড়াইয়ের পর অবশেষে ১৩৫ জনকে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের স্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগ করার রায় দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। ২০০৮ সালে এনবিএসটিসিতে ডায়েড-ইন-হার্নেস (চাকরি চলাকালীন মৃত্যু) কেসে যাঁরা চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের সেই সময় মাসিক চার হাজার টাকায় চুক্তিভিত্তিক চাকরি দেওয়া হয়েছিল। এক বছর পরে তাঁদের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। পরবর্তীতে ওই কর্মীরা স্থায়ী পদের জন্য ২০১৪ সালে মামলা দায়ের করেন। দাবি ছিল, অন্য সব সরকারি অফিসের মতো তাঁদেরও স্থায়ী চাকরি দেওয়া হোক।
এত বছর মামলা চলার পর অবশেষে ২২ জুন রায় ঘোষণা হয়। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী রায় ঘোষণার দিন থেকে আবেদনকারীদের স্থায়ী পদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু গত দু’মাসে সেরকম কিছুই হয়নি। অস্থায়ী কর্মীদের পক্ষের আইনজীবী রেজাউল হোসেন বলেন, আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, এই নিয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওই কর্মীদের নিয়োগ একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছিল, ফলে একে বেআইনি বলা যায় না। তারপরেও নিয়োগ হল না। তাই আদালত অবমাননার মামলা করা হচ্ছে। খসড়া হয়ে গিয়েছে, আমরা দু’একদিনের মধ্যে মামলা রুজু করব। নিগমের এহেন উদাসীনতায় হতাশ কর্মীরা।
















