“একজন বেইমানকেও আগামী দিনে দলে ফেরত নেওয়া হবে না“- শুক্রবার, ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে জানিয়ে দিলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “গতকাল অবৈধভাবে আমাদের দলীয় কার্যালয়ের বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড খুলতে এসেছিল। গোটা কলকাতা পুলিশকে লাগিয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের একটা সাইনবোর্ড খুলবে বলে। আমি বিজেপির বন্ধুদের বলব, অত্যাচার ততটাই করুন যতটা সহ্য করার ক্ষমতা রাখবেন।“
এদিন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস পাশাপাশি রাখি পূর্ণিমায়। মঞ্চেই TMCP-র পক্ষে থেকে অভিষেকের হাতে রাখি বেঁধে দেওয়া হয়। তাঁর পরে বলে উঠে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, “তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস এবং আজকের দিনেই রাখি পূর্ণিমার উৎসব ভারতবর্ষ জুড়ে পালন করা হচ্ছে। আমি রাখি পূর্ণিমার শুভেচ্ছা, ভালোবাসা, অভিনন্দন সকলকে জানাচ্ছি। আমাদের সমাজে যখন বিজেপি নামক এক রাজনৈতিক দল বিচ্ছিন্নতাবাদ, বৈষম্য এবং বিভাজনের রাজনীতি করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে নষ্ট করতে চাইছে, এই রাখি বন্ধন ভাইবোনের পবিত্র বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করুক, সুদৃঢ় করুক। আমি এই আশা রাখছি এই মঞ্চ থেকে।“
অভিষেক বলেন, “এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে দেশ যাচ্ছে যেখানে ছাত্র আন্দোলন সারা দেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। দিল্লির জমিদার-রাও ছাত্র যুব সমাজের কাছে কার্যত মাথা নত করতৈ বাধ্য হয়েছে। চুরি করে ভোটে জিতে যারা ক্ষমতায় এসেছিল, বাংলার অভিশাপ কী দেখেছেন, ৪ তারিখ ভোটের ফল বেরিয়েছে আর ১৫ তারিখ ককরোচ জনতা পার্টি তৈরি হয়েছে। বাংলার অভিশাপ। আজকে যারা বাংলার গোদি দখল করতে এসেছিল, ছাত্র যুব-র আন্দোলনে তাদের গোদি টলমল করছে।“
এর পরেই দলবদলু-গদ্দারকে নিশানা করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, “কুণাল ঘোষ বলেছেন, অভিষেকের কাছে আর দলনেত্রীর কাছে আবেদন বেইমানগুলোকে ফেরত নেবেন না। আমি বুক ঠুকে বলে যাচ্ছি। সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই একজন বেইমানকেও আগামী দিনে দলে ফেরত নেওয়া হবে না। নেত্রী যা ঠিক করবেন শিরোধার্য। কিন্তু যারা তৃণমূলের খেয়ে পরে, তৃণমূলের এই সময় কর্মীদের হাত ছেড়ে 'বিসি গ্রুপ'-এ, আমি বালিশ চাটা বলি না, আমি বলি বিসি। বিসি গ্রুপে নাম লিখিয়েছেন আর বিজেপির হাতে তামাক খাচ্ছেন, তাদেরকে কিন্তু কোনও ছাড় আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেস দেবে না।“
শাসকদল ও প্রশাসনকে একযোগে নিশানা করে অভিষেক বলেন, “গতকাল অবৈধভাবে আমাদের দলীয় কার্যালয়ের বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড খুলতে এসেছিল। গোটা কলকাতা পুলিশকে লাগিয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের একটা সাইনবোর্ড খুলবে বলে। আমি বিজেপির বন্ধুদের বলব, অত্যাচার ততটাই করুন যতটা সহ্য করার ক্ষমতা রাখবেন।“
আক্রমণ শানিয়ে অভিষেক বলেন, “ছোটোবেলায় মা ঠাকুমারা বলতেন লোভে ‘পাপ, আর পাপে মৃত্যু’। আজকে শুভেন্দু অধিকারী বলছেন, আমরা ২০৮। আমি শুভেন্দু অধিকারীকে মনে করিয়ে দিই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ২০০৬ সালে কলকাতা থেকে বলেছিল আমরা ২৩৫ ওরা ৩০, বাকি পাঁচ বছরে সিপিএমকে জীবাশ্ম করে দিয়েছিল বাংলার মানুষ। আপনারও শেষের শুরু হয়ে গেছে। বাকি পাঁচ বছর পর দূরবীণ দিয়ে খুঁজে পাওয়খ যাবে না। শেষ কথা পুলিশ বা বিজেপির নেতারা বলে না। বলে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। আর উপরওয়ালা দেখছেন, উপরওয়ালা ছাড় দেয়, ছেড়ে দেয় না। সকলকে বুক চিতিয়ে লড়াই করতে হবে।"
















