পুলিশের পোশাক কি শুধুই আইন-শৃঙ্খলার প্রতীক, নাকি কোনও রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠানের মঞ্চেও তার উপস্থিতি স্বাভাবিক? বারাসাতের বামনগাছিতে বিজেপির দলীয় কার্যালয় উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে পুলিশের পোশাকে ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে সংবর্ধনা দেওয়ার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই উঠছে এই গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, ওই আধিকারিক সুজিত দে-র বিরুদ্ধে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং মামলা-কেসের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
ঘটনাটি গত রবিবার সন্ধ্যার। বারাসত ৪ নম্বর মণ্ডলের দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন হয় বামনগাছি ছোট জাগুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বামনগাছি চৌমাথায়। অনুষ্ঠানের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পুলিশের পোশাক পরা অবস্থায় বামনগাছি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সুজিত দে-কে গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, একজন কর্মরত পুলিশ আধিকারিক কোনও রাজনৈতিক দলের দলীয় অনুষ্ঠানে এভাবে সংবর্ধিত হতে পারেন কি না।
পুলিশ ও জেল স্টাফের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারীদের কনডার্ট রুলস ১৯৫৯-এ সরকারি কর্মচারীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ মানের সততা, নিরপেক্ষতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। একই নিয়মের ১১ নম্বর ধারায় পূর্বানুমোদন ছাড়া সরকারি কর্মচারীর সংবর্ধনা গ্রহণ বা তাঁকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। ২৬ নম্বর ধারায় রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার উপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তাই প্রশ্ন শুধু একজন আধিকারিককে সংবর্ধনা দেওয়া নিয়ে নয়—প্রশ্ন পুলিশের নিরপেক্ষতার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে। যে পুলিশকর্মীকে বিরোধী দল, শাসক দল বা সাধারণ মানুষ সকলের কাছেই সমান দূরত্বে থাকার কথা, তাঁর রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠানে এমন দৃশ্য কেন?
সমাজের কাছে বার্তা স্পষ্ট—পুলিশকে দলীয় রঙের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। আর পুলিশের কাছেও প্রত্যাশা একটাই—আইনের পোশাক যেন কোনও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীক না হয়ে ওঠে। এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, আর নিয়ম ভাঙার প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা হোক। কারণ পুলিশের উপর মানুষের আস্থা একবার নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে আনা কঠিন।।
















