কলকাতা হাইকোর্টের কড়া শর্তের ঘেরাটোপেই শুরু হয়ে গেল ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশের মূল মঞ্চ বাঁধার কাজ। আইনি জটিলতা কাটিয়ে ভিক্টোরিয়া হাউসের পরিবর্তে এবার বিড়লা প্ল্যানেটেরিয়ামের অদূরে ক্যাথিড্রাল রোডে তৈরি হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের এই মেগা সমাবেশের মঞ্চ। আদালতের পুঙ্খানুপুঙ্খ নির্দেশ মেনেই রবিবার সন্ধ্যা থেকে জোরকদমে কাজ শুরু করে দিয়েছেন দলের কর্মীরা। প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সভাস্থলে হাজির ছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব কুণাল ঘোষ, দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। তবে আজ মঞ্চ তৈরির প্রস্তুতি চলাকালীন আচমকাই এলাকার রাস্তার আলো বন্ধ হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিমেষের মধ্যে গোটা এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়লেও, তা উপেক্ষা করেই ভিড় জমান কর্মী-সমর্থকেরা। নন্দন ও একাডেমি অফ ফাইন আর্টস চত্বর থেকেও বহু সাধারণ মানুষ এসে নেতৃত্বের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, এবার মাত্র আড়াই হাজার কর্মী-সমর্থক নিয়ে এই নির্দিষ্ট মঞ্চে সমাবেশ করা যাবে। কোনওভাবেই যাতে যানজট তৈরি না হয়, তার জন্য রাস্তার বাকি অংশ যান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ খোলা রাখতে হবে। এ দিন সভাস্থল পরিদর্শন করে কুণাল ঘোষ জানান, পুলিশের সঙ্গে লালবাজারে তাঁদের একটি ইতিবাচক ও সমন্বয়মূলক বৈঠক হয়েছে, যাতে পরে কোনও জটিলতা বা বিকৃত প্রচার না তৈরি হয়। তবে মঞ্চের অবস্থান নিয়ে কিছুটা বাদানুবাদ তৈরি হয়েছিল। পুলিশ উল্টো দিকে মঞ্চ করার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত ক্যাথিড্রাল রোডের পশ্চিম দিকের ফ্ল্যাঙ্কেই মঞ্চ বাঁধা হচ্ছে, যার মুখ থাকবে ধর্মতলার দিকে। কুণালবাবু অভিযোগের সুরে বলেন, “লক্ষ্য হচ্ছে তৃণমূলকে বাধা দেওয়া। আজ তো লাইটও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। মানুষ সব দেখছে এবং বুঝছে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই ২১ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক শহিদ দিবস পালিত হয়ে আসছিল। তবে এবার আইনি জটিলতায় সেই চেনা বৃত্তে পৌঁছনো না গেলেও বিকল্প সভাস্থলে আবেগ বিন্দুমাত্র কমেনি। যদিও শহিদ পরিবারের একাংশের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কিছুটা টানাপড়েন চলছে, তবুও এ দিন ক্যাথেড্রাল রোডের ভিড় প্রমাণ করেছে যে আমজনতার আবেগ নেত্রীর পক্ষেই রয়েছে। স্বরাষ্ট্র দফতর ও পুলিশি মহলের কড়া নজরদারির মধ্যে আগামিকাল এই সমাবেশের চূড়ান্ত প্রস্তুতি কোন রূপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
















